× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে রেখে যাওয়া বাচ্চার বাবা-মার পরিচয় মিলেছে, পুলিশি সহায়তায় হস্তান্তর

ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি:

২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে রেখে যাওয়া সেই বাচ্চার বাবা-মার খোঁজ মিলেছে অবশেষে। সোমবার(১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটেছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি সহায়তায় বিকেল ৫ টার দিকে সেই বাচ্চার বাবা-মার খোঁজ করে তাদের হাতে বাচ্চাটি হস্তান্তর করা হয়েছে। 


বাচ্চাটির বাবার নাম মোঃ ইমারুল প্রামানিক ও মা মোছাঃ মুক্তা খাতুন। তারা উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে হাসপাতালে বর্হিবিভাগে স্বামীকে চিকিৎসা করাতে আসা ঈশ্বরদীর জয়নগর গ্রামের মোছাঃ মিষ্টি আক্তার নামে অপরিচিত এক নারীর কোলে বাথরুমে যাবার অজুহাত দিয়ে বাচ্চাটিকে রেখে যায় মা মুক্তা খাতুন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও রেখে যাওয়া বাচ্চাকে আর নিতে আসেননি তিনি। এদিকে বাচ্চার শরীরে জড়ানো কাপড়ে একটি চিরকুট পেয়ে কোলে রাখা মিষ্টি আক্তার সেখানে লিখা দেখেন "আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজতে রাখবেন, বাচ্চার জন্ম ১লা জানুয়ারি"। শুধু তাই নয় সেখানে একটি মুঠোফোন নম্বরও লিখা ছিল। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে মোঃ আশরাফ নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। তিনি সম্পর্কে ওই বাচ্চার বাবা ইমারুল প্রামানিকের বড় ভাইয়ের জামাই হন। তবে তার নম্বরটি চিরকুটে কেন লিখেছে তা বলতে পারেননি তিনি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ভাইরাল হলে বাচ্চার বাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এসে বাচ্চাটি তার বলে জানান। পরবর্তীতে তার স্ত্রীকে ডেকে আনলে সে বাচ্চাটিকে নিয়ে কখনও বলেন 'আমার বাচ্চা নয়' আবার কখনও বলেন 'আমারই বাচ্চা', আবার কখনও বাচ্চাটি ছিনতাই হয়েছে বলে নানারকম নাটকীয় কাহিনীর জন্ম দেন। সর্বশেষ বাচ্চাটি জন্মের সময় সঙ্গে থাকা আত্মীয় স্বজনের মারফত নিশ্চিত হওয়া যায় বাচ্চাটির বাবা-মা তারাই। পরে থানায় গিয়ে পুলিশের মাধ্যমে বাচ্চাটিকে বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে বাচ্চাটিকে কেন অন্যের কাছে দিয়ে এমন নাটকীয় কাহিনীর জন্ম দিল সে বিষয়ে কিছুই জানাননি মা মুক্তা খাতুন।

বাচ্চাটি জন্মের সময় পাশে থাকা বাচ্চার বড় চাচী মোছা. ডলি খাতুন বলেন, বাচ্চাটি তাদেরই। সকাল ১১ টার দিকে বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে দেখেছি আমি। সিসি ক্যামেরায় যে ওড়না পরিহিত মহিলাকে দেখা যাচ্ছে সেই ওড়না পরেই মা মুক্তা খাতুন বাচ্চাকে হাসপাতালে আনেন। কিন্তু এমন কাজ কেন করলো বুঝলাম না।

বাবা ইমারুল প্রামানিক বলেন, আমি সকালে কাজে চলে গেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে সেটা জানিনা। হটাৎ করে শুনি আমার স্ত্রী বাচ্চা হারিয়ে ফেলেছে এবং প্রচুর কান্নাকাটি করছে। চিরকুটে লিখা নম্বরটা আমার বড় ভাইয়ের জামাইয়ের। সেই আমাকে বিষয়টি জানায় একটি বাচ্চা হাসপাতালে পাওয়া গেছে। আমি ছুটে এসে দেখি এটাই আমার বাচ্চা। কিন্তু আমার স্ত্রী কেন এমনটা করলো জানি না।

 ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. আলী এহসান বলেন, বাচ্চাটিকে নিয়ে একজন নারী আমার নিকট শরণাপন্ন হলে সেখানে একটি চিরকুট দেখি। পরে পুলিশকে অবগত করে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে বাচ্চার বাবা-মার খোঁজ পায়। থানা পুলিশের সহায়তায় বাচ্চাটি খুব ভালোভাবে তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কি কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে তা কোনভাবেই স্বীকার করেননি মা মুক্তা খাতুন। তবে বাচ্চার বাবা-মা যে তারা এটা নিশ্চিত হওয়ার পর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাচ্চাকে তাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.