সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ (২৬) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি গত সাত মাসে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় এক বৃদ্ধা ও এক শিশুসহ মোট ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাজুল ইসলামের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই ঘাতকের আসল নাম সম্রাট নয়, বরং সবুজ শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সাভার মডেল থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ভবঘুরে সেজে তিনি ঘুরে বেড়াতেন। নিজেকে নিরাপদ রাখতে তিনি কখনো ‘কিং সম্রাট’ আবার কখনো স্থানীয় এক কাউন্সিলরের নামের সাথে মিলিয়ে ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয় দিতেন।
জবানবন্দিতে সবুজ শেখ জানান, তিনি মূলত পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারকে তার আস্তানা ও ‘ডেথ সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে আসতেন। ওই নারীরা যদি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতেন, তবে ‘ক্ষোভ’ থেকে তিনি তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করতেন। এরপর পরিচয় গোপন করতে লাশে আগুন ধরিয়ে দিতেন।
সর্বশেষ ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানায়, গত ৩-৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে কমিউনিটি সেন্টারে আনেন সবুজ। সেখানে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তানিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠলে প্রথমে ওই যুবককে দোতলায় নিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে তানিয়াকে নিচতলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
৭ মাস আগে ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধার (৭৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাতি মামলা দায়ের করলে পরে আসমা বেগম নামের এই বৃদ্ধার পরিচয় মিলে। এরপর ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পৌর এলাকার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থানে ১১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা এক মহিলার (৩০) লাশ পাওয়া যায়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর সেখান থেকে অজ্ঞাতনামা আরও এক পুরুষের (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসব ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে সিসিটিভি এবং লাইট লাগানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি রোববার পুলিশ দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার করে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে একটি লাশ সরাতে দেখা যায় সম্রাটকে। তারপর পুলিশ তাকে আটক করে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্রাটকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মূলত ‘সাইকোপ্যাথ’ প্রকৃতির এবং সুস্থ মানুষের আড়ালে একজন ভয়ংকর অপরাধী। পুলিশ বর্তমানে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
