ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে ১২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় ১৬টি সংসদীয় আসনে এখন চূড়ান্তভাবে ১১১ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের তিনজন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। প্রত্যাহার শেষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বুধবার থেকেই প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা মাঠে নামবেন পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায়। নগরী ও জেলার প্রতিটি অলিগলি ও রাজপথ নির্বাচনী উৎসব-আমেজে মুখর হয়ে উঠবে, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
১২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দ্বৈত প্রার্থীর একজন গোলাম আকবর খোন্দকার তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে জোট শরিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ ইমরান ইসলামবাদী বলেন, “জোট আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এরপরও আমরা জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। ইসলামের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখ এই আসনসহ ১০ দলীয় জোট বিজয় অর্জন করবে।”
প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব;
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোক্তার আহমেদ;
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম;
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ;
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দীন;
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মোহাম্মদ লোকমান;
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান;
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান;
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুহাম্মদ মুসা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১, ৩, ৪, ১০, ১৪ ও ১৫ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
নগরীর তিনটি সংসদীয় আসনসহ মোট পাঁচটি আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলার ১০টি আসনের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
প্রার্থী সংখ্যা ও ভোটার তথ্য
গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৪২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। আপিল ও আদালতের রায়ে পরে ২২ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সর্বশেষ ১২ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন বৈধ প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
