লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে জখম করে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা, লুণ্ঠিত মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের বাসাবাড়ি–হায়দরগঞ্জ সড়কের সলিংয়ের মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক মমিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের কালাম মিয়া বেপারী বাড়ির নূর নবীর ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মমিন কাঁচা সবজি নিয়ে রায়পুরের সাজু মোল্লার ঘাট থেকে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে উক্ত স্থানে পৌঁছালে একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে তার গাড়ির গতিরোধ করে পাঁচ-ছয়জনের একটি ডাকাত দল। অটোরিকশা থামানোর সঙ্গে সঙ্গে এক ডাকাত তার বুকে ধারালো সুইচ গিয়ার ছুরি ঠেকিয়ে সবকিছু বের করে দিতে বলে। মমিন গড়িমসি করলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা itel P40 মডেলের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা নগদ ৬৮০ টাকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ছিনিয়ে নিয়ে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় রায়পুর থানার টহলরত এসআই (নিরস্ত্র) রাজীব কুমার সূত্রধর ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মমিন বিস্তারিত ঘটনা জানান। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চরমোহনা ইউনিয়নের চরবিকন্সফিল্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ছয় ডাকাতকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন— রিমন হোসেন (২০), মো. নাবিল হোসেন (২২), মো. রাকিব (২০), মো. নয়ন হোসেন (২০), মো. শাকিব হোসেন (২০) ও জিদান (১৫)।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি, কালো রঙের একটি নাকল (দেশীয় অস্ত্র), লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত চাঁদপুর রেজিস্ট্রেশনের সবুজ রঙের একটি সিএনজি অটোরিকশা (চাঁদপুর থ-১১-৩৮৩১) জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালকের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ছয় ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।