× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অপরুপ সৌন্দর্যের পর্যটন সম্ভবনার দ্বীপ তারুয়া

আরিফুর রহমান (রাসেল), চরফ্যাশন (ভোলা) :

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২১ পিএম

পূর্বে প্রমত্তা মেঘনা, পশ্চিমে খরস্রোতা তেতুলিয়া, উত্তরে বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ও দক্ষিণে বিশাল জলরাশির ভাণ্ডার বঙ্গোপসাগরের বুকে দ্বীপজেলা ভোলা। দ্বীপের রাণী ভোলার চরফ্যাশনের সাগর মোহনার ইউনিয়ন ঢালচর। এর দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ তারুয়া সমুদ্র সৈকত নৈস্বর্গিক স্বপ্নিল সৌন্দর্যের অপরূপ ভুমি। আশির দশকে গড়ে ওঠা দ্বীপটির নীলাভ সবুজ বনায়ন, সৈকতের ঝিকিমিকি বালির মাঝে লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি বিচরণ, সাগরের স্বচ্ছ শুভ্র ফেনিল তরঙ্গ ভ্রমণপ্রেমীদের টেনে আনে সৈকতের মিলন মোহনায়।

প্রকৃতির উজাড় করে দেয়া অনিন্দ্য সৌন্দর্য যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে সবাইকে।

তারুয়া সৈকত মোহনার মোহনীয় রূপে চোখ হয়ে পড়ে অপলক। সহসায় ভুলে যায় ক্লান্তি দূরতম পথের যাত্রী । চারদিকে বিস্তৃত নীলাভ জলরাশির গর্জন, সাগরের শুভ্র লোনা পানিতে জলকেলি, সবুজপাতায় ঘোমটা দেয়া দ্বীপের সৌন্দর্যৈ বারবার ভ্রমণপিপাসুরা ফিরে আসে এ মোহনায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা তারুয়া সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যে সত্যি প্রেমে পড়ে যায়।এর ম্যানগ্রোভ বনের মাঝে বিচরণ শত-সহস্র প্রাণীর।  হরিণ, বন্য মহিষ, গরু, বানরের অবাধ বিচরণ, ঘুঘু টিয়ে ফিঙে শালিকের কিচিরমিচির উদ্ভ্রান্ত পথিককে থামায় একটুখানি প্রকৃতির সুখ-শান্তি অনুভব করতে।

লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি বিচরণ পথিককে একটুখানি টেনে রাখে এদের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে। এরা পথিকের একটুখানি এদিক সেদিক হলে কর্পুরের মত উভে মাটির গভীর গর্তে।

তারুয়া সৈকতের ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম আকাঙ্খা সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য অনুভব করা।  পশ্চিমাকাশের সোনালি লালিমায় কিছুটা নিস্তব্ধতায় সাগর মোহনার স্বচ্ছ জলে নীরব-নীথর রূপে ফিরে যাওয়া প্রকৃতির গহবরে; যার সত্যি অসাধারণ দৃশ্যায়ন হয় লালিমা মাখা রক্তিম সূর্যে। গৃহপালিত পশুর ঘাস খাওয়া, বনের ঝোপঝাড়ে ঢোঁড়াকাটা হরিণের খালের কিনারে দাঁড়িয়ে জল খাওয়ার দৃশ্য, জনমানবের উপস্থিতির টের পেয়ে ভৌ দৌঁড় অন্যরকম অনুভূতি আনে উৎসুক মনে।  শীত মৌসুমে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। 

যথাযথ প্রচার ও যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে সম্ভাবনাময় তারুয়া সৈকতের পর্যটন স্পটটি এ অঞ্চলের আর্থিক খাতে বিপুল অবদান রাখবে বলে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন সাংবাদিক মোসলে উদ্দীন তরুণ বলেন, তারুয়া সৈকতের সৌন্দর্য অনিন্দ্য। সৈকতটির রয়েছে  বিপুল সম্ভাবনা। পর্যটকদের জন্য সরকারি- বেসরকারিভাবে আবাসনসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে পারবে। তিনি আরো বলেন, এ দ্বীপে স্থায়ী বসতি এখনো উল্লেখযোগ্য হারে গড়ে ওঠেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পর্যটকদের ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার এবং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তোলা হলে এটি কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রের মতো আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

ভোলা শহর থেকে এ সৈকতে যোগাযোগে ব্যবহার হয় সড়ক ও নৌপথ। ১৩৫ কিমির ১০০ কিমি সড়ক এবং ৩৫ কিমি হলো নৌপথ। সড়ক পথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা থাকলেও নৌপথে সিট্রাক যোগ করা গেলে যাতায়াত সহজীকরণ হবে বলে মনে করেন আগন্তুকরা।

 চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন বলেন, আমি ইতোমধ্যে তারুয়া সৈকত পরিদর্শন করেছি,  এর উন্নয়নে নজর দেব।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.