চার বছরেও শেষ হয়নি রাজশাহী মহানগরীতে নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভার। রাসিক সূত্র জানায়, ২০২১ সালে এসব ফ্লাইওভারের চুক্তি হয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃক নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারগুলো ডিয়েনকো লিমিটেড, এমবিআইএল-আরই (জেভি), স্টান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (সেল) এবং মজিদ এন্ড সন্স ও মীর আকতার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানায় রাসিক সূত্র। গত ২০-০৫-২০২১ তারিখে ফ্লাইওভারগুলোর নকশা প্রণয়নের জন্য তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) চুক্তি হয়েছিল। কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সার্ম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, ডিজাইন প্লানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট লিমিটেড (ডিপিএম) এবং ভিস্তারা আর্কিটেক্ট (প্রা.) লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পর-১ প্যাকেজ নং এসডব্লিউ ০২ লট বি-এর আওতায় চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণে নকশা প্রণয়ন ও বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করার চুক্তি সম্পাদিত হয়।
মহানগরীর বর্ণালী বন্ধ গেইট এবং নতুন বিলসিমলা রেলওয়ে ক্রসিং পর্যন্ত সমন্বিত ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১২৫৫ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মহানগরীর হড়গ্রাম নতুনপাড়া রেলওয়ে ক্রসিং ফ্লাইওভারের সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ৪শ’ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কোর্ট স্টেশন রেলওয়ে ক্রসিং ফ্লাইওভারের সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ৫২১ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর রেলওয়ে ক্রসিংয়ের সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ৮৯৭ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে তিনটির নির্মাণকাজ চলছে ধীরগতিতে; আর অন্যটির কাজের অবস্থা প্রায় স্থবির পর্যায়ে। নির্মাণকাজের মন্থরতায় ভোগান্তি বাড়ছে চলাচলকারিদের। নির্মাণকাজের জন্য সরু ও বিনষ্ট হয়ে যাওয়া এবড়োথেবড়ো রাস্তাগুলোতে প্রায় সৃষ্টি হয় লম্বা ট্রাফিক জ্যাম। যাতায়াতে লেগেই থাকে সার্বক্ষণিক ভোগান্তি। মাসের পর মাস ঝুঁকির বিষয়টিও ছিল উন্মুক্ত। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পিলার সংলগ্ন বড় বড় গর্তগুলো মাটি বালি দিয়ে কোনরকম ঢেকে দেয়া হয়েছে। তেমন কোন বিকল্প রাস্তা না থাকায় অধিকাংশ স্থানেই নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সকল প্রকার যানবাহনকে।
রাজশাহী শহরে নির্মাণাধীন একটি ফ্লাইওভারের নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। নকশার ত্রুটির কারণে ফ্লাইওভারটির ল্যান্ডিং স্থলে অতিরিক্ত যানজট ও ভোগান্তি সৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলছেন কর্তৃপক্ষ। রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন জানান, এটি নিয়ে রাসিক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি জরুরী বৈঠকও করেছেন। গোরহাঙ্গা রেলগেট হয়ে নিউমার্কেটমূখী নির্মাণাধীন ‘ফ্লাইওভারটি ল্যান্ডিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা নেওয়ার ফলে নিচের রাস্তার দুই পাশের যান চলাচলের স্থান সংকুচিত হয়ে যাবে। এতে ফ্লাইওভার চালু হলে সেসব স্থানে নতুন করে যানজটের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারনে ল্যান্ডিং স্পেসটির নকশা পুনরায় পরিবর্তন করার জন্য নকশা ও পরামর্শক প্রণোয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা হয়েছে রাসিক কর্তৃপক্ষের।
নগরীতে নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে তিনটির কাজ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলমান ধীরগতির কাজের সাথে অগ্রগতির তেমন কোন আভাস পাওয়া যায়না বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। আর অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থবির হয়ে থাকা রেলগেট ফ্লাইওভারের উত্তর পাশের কাজ এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ। নিউমার্কেট অংশের কাজ নকশার ত্রুটির কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে। চারবছর পরেও নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারগুলো নিজের ইতি টানতে না পারায় বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসি।
জানতে চাইলে প্রকৌশলী মি. মঈন বলেন, ফ্লাইওভার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবমিটকৃত বিল ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। পেমেন্ট পাবার পরেও কাজের অগ্রগতিতে কেনো কচ্ছপগতি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র রেলগেটের কাজটি একটু ধীরগতিতে চলছে, অন্যগুলোর কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে আমরা দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়েছি। যেভাবেই হোক তাদেরকে কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘স্টান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (সেল)’র প্রতিনিধি রাসেল বলেন, বর্তমানে রেলগেটস্থ ফ্লাইওভারের গার্ডারের কাজ চলমান আছে। কাজের প্রগ্রেস হচ্ছে। গার্ডারের কাজ বেশ সময় সাপেক্ষ, কিছুটা জটিলও বটে। কাজের গতি বাড়াতে এক গ্রুপের স্থলে এখন দুটো গ্রুপ কাজ করবে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবমিটকৃত বকেয়া বিল পেতে একটু দেরি হলেও পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। ডেনকো লিমিটেডের প্রতিনিধি টুটুল সমজাতীয় উত্তর দেন। জানতে চাইলে মি. রাসেল বলেন, কনলাসটেন্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে ল্যান্ডিং স্পেসের নকশা পরিবর্তন নিয়ে আমরা একবার বসেছি। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
