ছবি: সংবাদ সারাবেলা
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পৌর এলাকার যুগিয়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বালিঘাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর নিরীহ স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে যুগিয়া বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েক হাজার মানুষ অভিযোগ করেন, বালিঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি সহিংস ঘটনার দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। অবিলম্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। মানববন্ধনের কারণে ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হোটেল কর্মচারী কালাম জানান, ঘটনার রাতে আনুমানিক রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে তিনি ওয়াশরুমে গেলে হঠাৎ বালিঘাট এলাকা থেকে তার দিকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
তিনি বলেন, “আমি কোনো ঝামেলায় জড়িত ছিলাম না। হঠাৎ গুলি শুরু হলে দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ি। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আমার শরীরে এখনো একাধিক গুলি রয়েছে। কয়েকটি গুলি বের করা সম্ভব হয়েছে।”
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বশির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গোপীনাথপুর মৌজার নামে ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে যুগিয়া বালিমহল ও শালদাও মৌজা থেকে প্রতিদিন বালি উত্তোলন করছে। এতে সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, “যে মৌজার ইজারা নেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই বালি তুলতে হবে। একাধিক মৌজা থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
খাদিজা নামের এক নারী বলেন, “আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই।”
আরেক নারী সিমা খাতুন বলেন, “এই রাস্তাই আমাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বর্ষায় কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় আমাদের সন্তানরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। অবৈধ ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধ এবং দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি, উজ্জ্বল হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিরীহ মানুষের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাই। মামলা প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, যুগিয়া বালুঘাটের ইজারাদার বশির আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তার অফিসে হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলায় তার ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মচারী গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা চাঁদা দাবি, নগদ অর্থ লুট, মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং বালু উত্তোলনকারী যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ ঘটনায় বক্তব্য নিতে যুগিয়া বালুঘাটের ইজারাদার বশির আলীর সঙ্গে এক সাংবাদিকের ফোনালাপ হয়। ফোনালাপে বশির আলী দাবি করেন, ঘটনার সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) নিজে এসে আহতদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ঘাটে সরকারি রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। সেখানে দুষ্কৃতিকারীরা এসে গোলাগুলি করেছে, গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, নগদ টাকা লুট করেছে। এসব বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।” এ সময় মানববন্ধন প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কী কারণে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হচ্ছে।তিনি যানেন না।
তিনি বলেন যে আমি ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ্য টাকা দিয়ে বালির ঘাটতি ইজারা নিয়েছি কিন্তু দুর্বৃত্তদের কারণে আমার অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দাবিও জানাচ্ছি। তা না হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন আমি হব। এইভাবে যদি বালি উত্তলনে বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে আমার অনেক ক্ষতি সাধন হবে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বালিঘাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় পুরো যুগিয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
