লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক ইটভাটা শ্রমিককে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—চর পাগলা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আবুল কালামের মেয়ে জেসমিন (২২), সুমি বেগম (২৬), রিনা বেগম (২৪), ছেলে আকবর হোসেন বাবুল (২০) এবং স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৫০)।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, তার ছেলে আকবর হোসেন বাবুল রামগঞ্জের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থ হয়ে গত দুই-তিন দিন ধরে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে অপরিচিত কয়েকটি নম্বর থেকে বাবুলের মোবাইলে কল আসে। একটি কল রিসিভ করলে তাকে চর কাদিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনের দোকানে যেতে বলা হয়।
কলের কথায় সাড়া দিয়ে বাড়ির সামনে দোকানের দিকে যেতেই করইতোলা বাজার এলাকার ইউছুপ ও বাশার বাবুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাবুল চিৎকার করলে আশপাশের লোকজনের পাশাপাশি তার মা ও বোনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাধা দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় মো. খালেক, মালেক ও জিহাদের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলাকারী বাবুলসহ তার মা ও বোনদের এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেন আবুল কালাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”