সিলেট নগরীতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে একটি গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চৌহাট্টা পয়েন্টের জিন্দাবাজারমুখী সড়কের ওপর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে করে দীর্ঘ সময় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের ব্যানারে আয়োজিত এ গণজমায়েতের জন্য দুপুর ১টার পর থেকেই চৌহাট্টা পয়েন্টের জিন্দাবাজারমুখী সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাস্তার মাঝখানে চেয়ার ও মঞ্চ স্থাপন করে কর্মসূচি শুরু করা হয়, ফলে ওই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এতে বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হয়। জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টামুখী গাড়িগুলো নগরীর তাতিপাড়া এলাকা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়, আবার অনেক চালককে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথে চলে যেতে দেখা যায়।
রাস্তা বন্ধ থাকায় শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়া মানুষজন পড়েন চরম দুর্ভোগে।
অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে অংশ নেন, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম। এছাড়া সিলেট ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও এই গণজমায়েতে অংশগ্রহণ করেন।
নাহিদ নামে এক পথচারী বলেন, এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে অনুষ্ঠান করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার কোনো মানে হয় না। এই গণজমায়েত অন্য কোনো উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা যেত। এমন কর্মসূচি নেওয়ার আগে তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরও বেশ কয়েকজন পথচারী।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা বন্ধ করার কোনো অনুমতি পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। গণভোট সংশ্লিষ্ট প্রচারণার বিষয়ে অনুমতি ছিল, তবে সড়ক অবরোধ বা বন্ধ করার অনুমতি তারা পাননি। আয়োজকরা নিরাপত্তা চেয়েছিল, সে অনুযায়ী পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল বলে জানান তিনি।