ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঞ্চল্যকর আহনাফ আল মাঈন নাশিত (১০) অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিফাত (২০)। বেলা ১১টার দিকে কারাগারে আটক তিন আসামিকে আদালতে আনা হয়। এজলাসে নেওয়ার সময় তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। রায় ঘোষণা শেষে আদালত সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নাশিতকে অচেতন করে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় নাশিতের বাবা ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিহতের বাবা পুলিশকে তুষার নামে একজনকে সন্দেহের কথা জানান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে তার দেওয়া তথ্য মতে, দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে স্কুলব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।