গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে মারপিটের ঘটনায় নামীয় ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগি শাহানা বেগম। কিন্তু আসামীরা জামিনে বের হয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জানুয়ারী) দুপুরে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগি শাহানা বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিরোধপূর্ণ জমি আমিসহ আমার সহোদর বোন ফরিদা বেগম, বেলি বেগম, সাজিয়া বেগম, আছিয়া বেগম ও সীমা বেগমের নামে দলিল মূলে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু পূর্ব থেকে আসামীগণ উক্ত জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে ঘোর শত্রæতা করে জোরপূর্বক জমি দখল করবে, বাধা দিলে মারপিট, খুন-জখম করবে মর্মে নানাভাবে বলাবলি, ভয়-ভীতি, হুমকী প্রদর্শন করতে থাকে।
এরই একপর্যায়ে গত ১১ই জানুয়ারী সকাল অনুমান ১০টার দিকে আমরা তফসিল বর্ণিত জমি স্থানীয় আমিন দ্বারা মাপযোগ করি, মাপযোগ শেষে বিকেল অনুমান ৫ টার দিকে বাঁশ-খুঁটি দ্বারা সীমানা নির্ধারণ করি। অভিযুক্তরা মাপযোগ না মানিয়া পূর্বপরিকল্পিতভাবে, পরস্পর যোগসাজসে হাতে লাঠি, লোহার রড, ধারালো ছোরা ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে আমাদেরকে প্রাণে মারিবার জন্য আক্রমণ করে। তখন আমি আত্মরক্ষায় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আসামীগণ আমার পথরোধ করে ঘিরে ধরে অতর্কিতভাবে আক্রমন করতঃ আমাকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে আলাল মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথার ওপরে বামপার্শ্বে স্বজোরে চোট মারে। এতে আমার হাড়কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে ৬টি সেলাই দিতে হয়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ৬ জনকে এজাহার নামীয় আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করি। কিন্তু পুলিশ আসামীদের না ধরায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আলাল মিয়া ও জিহাদ মিয়াসহ তাদের লোকজন আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বোন ফরিদা বেগম, বেলি বেগম, সাজিয়া বেগম, আছিয়া বেগম, সীমা বেগম ও বোনদের স্বামী জোব্বার আলী ও হারুন মিয়া।
বিষয়টি অস্বীকার করে আলাল মিয়া ও জিহাদ মিয়া বলেন, আমরা কোন হুমকি ধমকি দেইনি। ওই জমির ওপর দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। সেজন্য তাদের সঙ্গে ভালোমন্দ কথা বলেছি মাত্র।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আখতারুজ্জামান বলেন, আসামীদের মধ্যে ৪জন আদালত হতে জামিন নিয়ে এসেছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।