ছবি: সংবাদ সারাবেলা
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাধারণ শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ। অথচ সেই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ঝিনাইদহ শহরের সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিদেশি মুদ্রার অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজারের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকের এক পিয়নকে সামনে রেখে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র নিয়মিতভাবে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা হাতবদল হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের এই শাখাটি কোনোভাবেই বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। তবু গ্রাহকদের অবগতির জন্য শাখার ভেতরে নোটিশ বোর্ডসহ অন্তত তিনটি স্থানে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে “এই শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করা হয় না।” কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ওই ঘোষণার আড়ালেই ব্যাংকের আশপাশের এলাকায় নির্বিঘ্নে চলছে নিষিদ্ধ বৈদেশিক মুদ্রা বাণিজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংকের মাস্টাররোলে কর্মরত শহীদুল ইসলাম নামের এক পিয়নের মাধ্যমেই বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরাসরি ব্যাংকে প্রবেশ করে সৌদি আরবের ১০০ রিয়াল ভাঙানোর বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, শাখার পিয়ন শহীদুল কোনো দ্বিধা ছাড়াই বর্তমান রেট জানিয়ে দেন এবং ব্যাংক কর্তৃক নিয়োজিত এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এ সংক্রান্ত ফোনালাপের একটি ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। পরবর্তীতে ছদ্মবেশে এক সাংবাদিক বিদেশি মুদ্রা ভাঙানোর উদ্দেশ্যে ব্যাংকে উপস্থিত হলে দেখা যায়, লেনদেনটি ব্যাংকের ভেতরে নয়, পিয়নের নির্দেশনায় পাশের একটি গলিতে কথিত দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সেখানে বিদেশি মুদ্রা ও নগদ টাকা সরাসরি হাতবদলের পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে কীভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা হচ্ছে, তার স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের আবজাল হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহার করে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শাখা ব্যবস্থাপনার অদৃশ্য সহযোগিতা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন চলা অসম্ভব। একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. বশির আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, শাখাটিতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের কোনো অনুমোদন নেই এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবজাল হোসেনের বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নীরবতা পালন করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া ফোনালাপ, প্রত্যক্ষ লেনদেনের চিত্র ও ভিডিও প্রমাণ তার বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শাখা ব্যবস্থাপকের নীরব সম্মতি ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলা অসম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একটি সাধারণ শাখায় যদি এভাবে গোপনে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা চলে, তবে তা শুধু ব্যাংকিং শৃঙ্খলাই নয়, রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তাদের প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বাইরে যদি নিয়মবহির্ভূত লেনদেন চলতে পারে, তাহলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তদারকি কোথায়? এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুনাম রক্ষা এবং অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না!
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
