× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মাদারগঞ্জে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ

মাসুদূর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি :

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর ৩ (মাদারগঞ্জ মেলান্দহ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু ও সাদিকুর রহমান সিদ্দিকীর শুভ'র বিরুদ্ধে টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।  অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভোটাররা।  


অভিযোগ রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাংশের কিছু নেতা-কর্মীকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিজের পক্ষে টানছেন  কাচ পিরিচ প্রতিকের প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ  । পাশাপাশি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ বিতরণের অভিযোগও উঠেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে গত ২৪ জানুয়ারী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বহিষ্কার করেন। এ ছাড়াও তিনি নির্বাচনী আচরণ বিধি অমান্য করায় গত ২২ জানুয়ারি শুভকে ২০২৫ এর বিধি ৩, ৯ ও ১৮ এর লঙ্ঘন এর অভিযোগে ও ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৯ এর (চ) অনুযায়ী উক্ত মিছিলে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ৯ (চ) এর লঙ্ঘন করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল জজ আরিফ হোসাইন।  এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু মাদারগঞ্জের আমানত উদ্ধার সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। মাদারগঞ্জের ২৮টি সমবায় সমিতির প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকদের থেকে আন্দোলনের সময় ৩০-৫০ টাকা করে প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আদায় করেন। 


সেই টাকা দিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।   হাজরাবাড়ী বাজার এলাকার সুলতান জানান, কাচ পিরিচ প্রতিকের প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ মিছিলে গেলে ৫০০ করে টাকা দেয়। পাশাপাশি তারা চলাচলের জন্য অটো গাড়ী প্রদান করেন । 


এদিকে বালিজুড়ী এলাকার সবুজ জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করেছেন। আমাদের কাছ থাইকা টাকা তুলেছে, আন্দোলন করেছে। এতো টাকা কোথায় কি খরচ করেছে তাও জানি না। এখন নিজেই এম্পি প্রার্থী। ভোটারদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার করছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি মাদারগঞ্জ সমবায় সমিতির গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধার কমিটির সংবাদ সম্মেলনে   মমতাজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, এর আগে আন্দোলনের সময় আমাদের টার্গেট ছিল ৫ রাস্তায় শাহ জামাল এর সামনে আন্দোলন করা এবং শাহ জামাল হাসপাতাল আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। কিন্তু সেখানে অর্থনৈতিক লেনদেন কিংবা অন্য কোম যোগ সাজশে হঠাত ডিসি অফিসের সামনে পোগ্রাম দেওয়া হয়। আন্দোলনের সময় আমরা অনেক অনুদান পেয়ছিলাম। আমরা সদস্য কার্ড তৈরি কার্ড করেছিলাম যেটাতে খরচ হয়েছিল ৫৫ পয়সা। সেই কার্ড ১০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। সেই অর্থের কোন হিসাব আমি বা আমার কমিটির কেউ পায় নাই । আমি ব্যক্তিগত ভাবে রাজু ভাইকে বলেছি হিসাব দিতে। দেয় নাই।  


এদিকে বিএনপির নির্বাচনী সভায় মাদারগঞ্জের উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুখলেসুর রহমান তার বক্তব্যে অভিযোগ আনেন,  একটি সংগঠন মাদারগঞ্জের প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক টাকা আত্মসাৎ করে তারা ভোটারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দাড়ি পাল্লায় ভোট চাচ্ছে ।  তাদের থেকে সতর্ক আহব্বান জানান তিনি ।  অন্যদিকে বালিজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন,  একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে যে টাকা উত্তোলনের নামে সাধারণ গ্রাহকদের নিয়ে আন্দোলন করে প্রত্যকের কাছ থেকে ৩০-৫০ টাকা করে চাদা নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা তুলেছে । তাকে বয়কট করার জন্য আহব্বান জানান তিনি। তিনি তার বক্তব্যে আরো অভিযোগ করেন, মেলান্দহ থেকে আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। তিনি প্রত্যেক মানুষকে ৫০০ করে টাকা দিয়ে তার মিছিলে নিয়ে যায়। তিনি ভোটার উদ্দ্যেশ্য যে সমস্ত প্রার্থীরা টাকার লোভ দেখায় নানা প্রলোভন দেখায় তাদের প্রত্যাখান করার আহবান জানিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের বিএনপির কর্মীদের নানা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট ছেড়ে ফিলছে। 



স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ জানান, আমি বা আমার কোন সমর্থক টাকা দেয় না। আমরা একটা পানও খাওয়ায় না।  এগুলা মিথ্যা এবং অপপ্রচার। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী মুঠোফোনে  জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্টিং কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানান,  এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.