× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চাঁদা না পেয়ে কৃষকের দেড় বিঘা জমির ফসল লুটের অভিযোগ

সৌরভ কুমার দেবনাথ, ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি:

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৫ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে চাহিদাকৃত চাঁদা না পেয়ে মোঃ শরিফুল ইসলাম নামে এক কৃষকের দেড় বিঘা জমির গাজর ও আবাদী সবজি লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশলীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার(৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাকশি ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। 


বৃহস্পতিবার(৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল১১ টার দিকে ভুক্তভোগী ওই কৃষক থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরন দাবি করেছেন।


ভুক্তভোগী কৃষক শরীফুল ইসলাম উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ প্রামানিকের ছেলে।


লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে কৃষকের আবাদি জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, আবাদী জমি থেকে সদ্য তুলে নেওয়া গাজর ও অন্যান্য সবজির উপকরন পড়ে রয়েছে। জমির বিপরীত পার্শ্বে প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে বর্তমানে পেয়াজ চাষ করা রয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মাস আগে কৃষক শরিফুল ইসলাম পাকশি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুলের নামে লিজকৃত ৪ বিঘা জমি এক বছর মেয়াদের জন্য ৪০ হাজার টাকায় খাজনা নেয়। পরে সেখানে লাউ আবাদ করলে ষড়যন্ত্রপূর্বক পাশের জমির মোঃ বিপ্লব নামে একজন লাউগাছের জাংলা ভেঙে দিলে তার সঙ্গে কৃষক শরিফুল ইসলামের বাকবিতন্ডা হয়। আর সেই বাকবিতন্ডার মিমাংসার জন্য স্থানীয় আবুল কালামের ছেলে মোঃ আশিকের সহযোগিতা চাইলে মিমাংসা বাবদ ভুক্তভোগী কৃষকের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা নেয় আশিক। হটাৎ কিছুদিন পর আশিক ও স্থানীয় পলাশ ৩/৪ জনের একটি গ্রুপ এসে পার্টনারে ব্যবসা করছে বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষক শরিফুল ইসলামকে জোরপূর্বক তারা তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের হুমকি ও কখনও এক লক্ষ আবার কখনও দুই লক্ষ টাকাও দাবি করে। তোপের মুখে পড়ে উপায়ন্তর না পেয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁদের দেওয়া হয়। আরো ২০ হাজার টাকা কিছুদিন পর দিতে হবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় তারা। তবে সেই টাকা না দেওয়ার কারনে আশিক বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে দেড় বিঘা জমির গাজর ও অন্যান্য সবজি লুট করে নিয়ে যায়।


এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল যখন লুট হয়ে যায় তখন বোঝা যায় কতটা রাহাজানির শিকার আমরা সাধারন মানুষ। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছি।


ভুক্তভোগী কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আশিক সম্পর্কে আমার এলাকার জামাই হন। পার্শ্ববর্তী জমির মালিকের সঙ্গে ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে আশিকের দারস্থ হয়েছি। এখন দেখছি সেই দলবল নিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করছে। সেই চাঁদা না পেয়ে জোরপূর্বক ক্ষেতের সব গাজর ও সবজি লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি, আমি আমার ক্ষতিপুরনটুকু চাই।


ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত মোঃ আশিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সরাসরি কথা হবে বলেই মুঠোফোনে সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন।


ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ দিয়েছে কি না নিশ্চিত হয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.