চট্টগ্রামের শঙ্খ নদী দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢল দু’পাড়ের মানুষকে আতঙ্কে রাখে। নদীর উত্তাল ঢেউ যেন ছুটে চলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে। পাহাড় নদীতে ঘেরা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, মেধা মননে, মানবিকতার সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম-১৪ আসন। শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ের মানুষের মাঝে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার নামে খ্যাত শঙ্খ নদীর তীরবর্তী চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি ১৯৭৬ সালে পটিয়া থেকে বিভক্ত হয়ে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। চন্দনাইশের কাঞ্চননগরে কাঞ্চন পেয়ারাসহ কয়েক জাতের পেয়ারা দেশব্যাপী সুখ্যাতি রয়েছে।
অনেকে চন্দনাইশের এ কাঞ্চন পেয়ারাকে বাংলার আপেল বলে থাকে। এ আসনের প্রবেশ দ্বারে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, একটু সামনে এগিয়ে আসলে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ, দোহাজারীতে শঙ্খ নদী যেন এ আসনের একটি ঐতিহ্য। চট্টগ্রাম-১৪ আসন তথা চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার সংসদীয় আসনে চন্দনাইশের ২ পৌরসভা, ৮ ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়ন নিয়ে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা নিধারণ করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ, এলডিপির মনোনীত ছাতা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক, বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান ফারুকী, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল হামিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী এইচ.এম ইলিয়াছ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির ২ নেতা ফুটবল প্রতীকের এডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী, মোটরসাইকেল প্রতীকের সফিকুল ইসলাম রাহী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ১৯৭৬ সালে চন্দনাইশ থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ আসনে ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রেুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি’র প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার মাহবুবুল কবির চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রদূত হলে ১৯৮১ সালে উপ-নির্বাচনে এলডিপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ, একই বছর ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কর্ণেল অলি জয়লাভ করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় কর্ণেল অলি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপি থেকে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করে ৬ষ্ঠবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কর্ণেল অলি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্ণেল অলি জামায়াতে ইসলামের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ১১ দলীয় জোটে তাঁর ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে প্রার্থী করেছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে একটি আলোচিত আসন। এ আসনটি এক সময় বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে কর্ণেল অলি ১৯৮১ সাল থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাও. সোলাইমান ফারুকী পর পর ৩ বার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তার সাথে রয়েছে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এড. মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল) ও দক্ষিণ জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহি (মোটরসাইকেল)। তাদের সাথে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাতীয় পাটি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দক্ষিণ জেলা জাতীয় পাটির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চন্দনাইশ উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বাদশা মিয়া, পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের পূর্ব জেলার সাবেক সভাপতি, নায়েব-এ সদর, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল হামিদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রেসিডিয়াম সদস্য, আপেল প্রতীকের প্রার্থী পটিয়া শান্তিরহাট এলাকার বাসিন্দা এইচ.এম ইলিয়াছ। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৪৮ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৯৩ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৩৪২ জন।