মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস—এই তিন দিবসকে ঘিরে এখন ফুলের ব্যস্ত মৌসুম চলছে। এ বছর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিজয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতিও বাড়িয়েছে ফুলের চাহিদা। সব মিলিয়ে উৎসবের এই সময়ে ফুল বিক্রি নিয়ে আশাবাদী চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
ভোরের কুয়াশা কাটতেই মাঠজুড়ে চোখে পড়ে রঙিন ফুলের সারি। গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধায় ভরে উঠেছে সিংগাইরের ফুলের মাঠ। চাষি ও বাজারসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এই কয়েকটি দিনকে ঘিরে উপজেলায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর ও জয়মন্টপাড়া, শায়েস্তা ইউনিয়নের নীলটেক, তালেবপুর ইউনিয়নের ইররা ও নতুন ইরতা এবং জামির্তা ইউনিয়নের পানিশাইল এলাকাগুলো এখন ফুলপল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে সিংগাইরে ৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এখানকার ফুল ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
উৎসব যত কাছে আসছে, ফুলের দামও তত বাড়ছে। বর্তমানে গোলাপ প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, জারবেরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গ্লাডিওলাস ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং রজনীগন্ধা ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে দাম আরও বাড়তে পারে। এই সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ফুলচাষিরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে খরচ মেটাতে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাই শ্রম দিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আগাম অর্ডার আসছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। তবে পরিবহন ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো ফুল বাজারে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সিংগাইরে ফুলচাষ একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতে রূপ নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে ফুলচাষ দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক হবে।