নির্বাচন সামনে আসতেই ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নীরবে বাড়ছে আতঙ্ক। বাহ্যত কৃষি ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম তৈরির আড়ালে নাকি কিছু কামারের দোকানে গোপনে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এমন অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এসব অস্ত্র রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে, যা পুরো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক অনিশ্চিত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনের আলোয় স্বাভাবিক কৃষি সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকা কামারের দোকানগুলো রাতের নীরবতায় ভিন্ন রূপ নেয়। গভীর রাতে দোকানের ভেতরে আলো জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই এসব দোকানে অস্বাভাবিক লোকসমাগম বাড়ে, এবং রাতের নিস্তব্ধতায় শোনা যায় লোহার কাটাকাটি ও পেটানোর শব্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “সারা বছর তেমন কিছু বোঝা যায় না। কিন্তু ভোট এলেই গভীর রাতে লোহার শব্দে ঘুম ভাঙে। কে আসে, কে যায়, সবই অজানা। পরিবার নিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে।”
আরেকজন বাসিন্দা জানান, “রাতের নিস্তব্ধতায় দোকানের ভিতরে কাজ চলা এবং অচেনা লোকজনের আনাগোনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিরোধ ও উত্তেজনা বেশি এমন এলাকাগুলোতে এ ধরনের গোপন তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনকালীন সহিংসতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আগেভাগেই দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও মজুদ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও ঝিনাইদহে অতীতের রাজনৈতিক সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক ঘটনা রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, “নির্বাচনের আগে কোনো অবৈধ অস্ত্র তৈরি বা মজুদের সুযোগ দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের দাবি, জেলার সব কামারের দোকানের কার্যক্রম দ্রুত যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও অভিযান ছাড়া নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। নির্বাচনের আগে দেশীয় অস্ত্র তৈরির অভিযোগ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, আগাম ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে জনমনে আস্থা ফেরাতে এবং একটি সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে।