শরীর সঙ্গ দিচ্ছে না, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে জীবন—তবুও গণতন্ত্রের ডাকে সাড়া দিতে এক মুহূর্তও পিছপা হননি মো. রফিকুল ইসলাম (৭৫)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হুইলচেয়ারে করেই তিনি হাজির হন নীলফামারী পুলিশ লাইনের ভোটকেন্দ্রে। তার এই দৃশ্য যেন নীরবে বলে দেয়—নাগরিক দায়িত্ব কখনো বয়স বা অসুস্থতার কাছে হার মানে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই নীলফামারীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। সেই ভিড়ের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ধীরে ধীরে কেন্দ্রে পৌঁছান রফিকুল ইসলাম। অসুস্থ শরীর, কাঁপা হাত—সবকিছুকে পেছনে ফেলে তিনি দাঁড়ান ব্যালটের সামনে, শুধু একটি বিশ্বাস নিয়ে—ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
নীলফামারী শহরের বাড়াই পাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে না পারায় তাকে হুইলচেয়ারেই কেন্দ্রে আনা হয়। কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তাকে ভোট দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেন।
ভোট দেওয়া শেষে আবেগভেজা কণ্ঠে তিনি সংবাদ সারাবেলা প্রতিবেদককে বলেন, “শরীরটা ভালো নেই—এই সত্যটা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু ভোট দেওয়া তো আমার অধিকার, আবার দায়িত্বও। দেশের ভবিষ্যৎ কাদের হাতে যাবে, সেখানে আমার মতামতটা রেখে যেতে পেরে আমি শান্তি পেয়েছি। আল্লাহ করুন, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট শেষ হোক, আর মানুষ যেন যোগ্য মানুষকেই বেছে নেয়।”
তার এই দৃশ্য উপস্থিত ভোটারদের চোখে পড়ে গভীরভাবে। অনেক তরুণ ভোটার বলেন, একজন প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ যখন কষ্ট করে ভোট দিতে আসেন, তখন সেটি আমাদের জন্য শুধু অনুপ্রেরণা নয়—একটি নৈতিক বার্তাও বয়ে আনে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটারদের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কেউ যেন অসহায় বোধ না করেন এবং নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
নীলফামারী পুলিশ লাইন কেন্দ্রসহ জেলার অন্যান্য ভোটকেন্দ্রেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।