চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। নারী ও পুরুষ ভোটাররা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় করেন ভোটাররা। কেউ ১৬ বছর, কেউবা ১৮ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই সুযোগ পেয়েই ফজরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান তারা। এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটাররা।
আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় ভোটার আব্দুল করিম বলেন, “আমি প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। আজ ফজরের নামাজ পড়ে প্রথমেই কেন্দ্রে চলে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
একই কেন্দ্রের নারী ভোটার রওশন আরা বেগম বলেন, “অনেক বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হলেও আনন্দটা অনেক বেশি।”
ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়া তরুণ ভোটার সোহেল রানা বলেন, “প্রথমবার ভোট দিলাম। সকাল থেকে মানুষের যে আগ্রহ দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে সবাই পরিবর্তন চায়।”
এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সকাল ৮টায় আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছে। এই উৎসবমুখর পরিবেশই প্রমাণ করে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়।”
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা আমির রুহুল আমিন সকাল ৭টায় ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, “ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সার্বিকভাবে জীবননগর উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।