× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সিল মারা ব্যালটের ছবি ফেসবুকে সয়লাব

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৭ পিএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন এবং ভোট শেষ হওয়ার আগেই নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালট পেপারের অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়লে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটের গোপনীয়তা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


ভোটের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি, রাজনৈতিক সমর্থনমূলক পেজ ও গ্রুপে সিল দেয়া ব্যালট পেপারের ছবি পোস্ট হতে দেখা যায়। কোনো কোনো ছবিতে ভোটারদের গোপন কক্ষে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল দেয়ার পর সেই ব্যালটের ছবি তুলে তা প্রকাশ করার চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। আবার অনেক পোস্টে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কিংবা রাজনৈতিক দলের পক্ষে সমর্থনসূচক বক্তব্য সংযুক্ত থাকায় ভোটের নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।


শুধু একক ব্যালট পেপারের ছবি নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যালট পেপারের ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও নজরে এসেছে। এসব ছবির সত্যতা, উৎস ও সময়কাল নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 


কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ছবি ভোট জালিয়াতি কিংবা ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করছে কি না। আবার অনেকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে এনেছেন।


নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। সাধারণভাবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বিশেষ করে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা কিংবা তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলেন এবং গোপন কক্ষে সিল মারা ব্যালট পেপারের ছবি তুলতে সক্ষম হলেন।


এ বিষয়ে নীলফামারী-১ আসনের ৬৬ নম্বর ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু রায়হান সোহেল বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন কোনোভাবেই কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। তবে আমরা তো প্রত্যেককে তল্লাশি করতে পারি না। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটছে, সেটিও আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়।”


তার বক্তব্যে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তব প্রয়োগের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের মতে, ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক শর্ত। ব্যালট পেপারের ছবি প্রকাশ ভোটারের স্বাধীন মতপ্রকাশে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রভাব বিস্তার বা চাপ প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 


সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভোটের গোপনীয়তা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.