× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কক্সবাজার-৪ আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

স্টাফ রিপোর্টার(কক্সবাজার) :

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশ (১/৮) অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রার্থী জামানত হারান। শতাংশের হিসাবে যা দাঁড়ায় ৫৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ—অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জমাকৃত জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হয়। গত শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারী)  জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান চারটি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চার আসনেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মধ্যে; অন্যরা বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন।


কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া): একক লড়াই, তৃতীয় প্রার্থীর ভরাডুবি

এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৪৫ হাজার ৩০৪ ভোট। তিন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী সালাহউদ্দীন আহমদ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল ফারুক ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সারওয়ার আলী কুতুবী মাত্র ৪ হাজার ৫২৮ ভোট পান। প্রয়োজনীয় ভোটের তুলনায় তার প্রাপ্তি ছিল অত্যন্ত কম, ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।


কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া): তিন প্রার্থীর জামানত হারানো

এ আসনে মোট বৈধ ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯। জামানত রক্ষার সীমা ছিল অন্তত ২৯ হাজার ৮৮ ভোট। বিজয়ী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি।

ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক পান ৮,৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক পান ৭৫৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান পান ১৯৭ ভোট। প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।


কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও): চার প্রার্থীর জামানত বাতিল

৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ ভোটের এই আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪৪ হাজার ৫৭৪ ভোট। ছয় প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী লুৎফুর রহমান কাজল ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শহীদুল আলম বাহাদুর ছাড়া বাকি চারজন প্রার্থী বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন।

ইসলামী আন্দোলনের আমিরুল ইসলাম পান ৫,১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া পান ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া পান ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার পান ৩৬৭ ভোট। প্রত্যেকেই ন্যূনতম ভোটের সীমা পূরণে ব্যর্থ হন।


কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ): দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১টি। জামানত ফেরত পেতে প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম ৩১ হাজার ৯০৩ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নুরুল হক পান ৪,৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাইফুদ্দিন খালেদ পান ৩৭৯ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোটের অনেক নিচে থাকায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।


নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, চারটি আসনেই ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোটব্যবধান গড়ে তুলতে না পারায় অধিকাংশের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্ত সংগঠন ও জনসমর্থন ছাড়া ছোট দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, বিধি অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.