ইট উৎপাদনের মৌসুম শুরু হলেই উপজেলা জুড়ে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। ভাটাগুলোতে দিন-রাত শ্রমিকদের ব্যস্ততা, কাঁচামাল সরবরাহে ট্রাকের আনাগোনা সব মিলিয়ে জমে ওঠে শিল্প কার্যক্রম। তবে এই উৎপাদন ব্যস্ততার আড়ালে নীরবে কমে যাচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও খালবিলের পরিধি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার বিপুল মাটির চাহিদা পূরণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে ৫৮টি ইটভাটা চালু রয়েছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হওয়ায় একটি চক্র কৃষকদের কাছ থেকে জমির উপরিভাগ কেটে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে দেখা দিচ্ছে শঙ্কা।
স্থানীয়রা জানান, অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জমি আগের মতো ফলন দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু ফসলি জমিই নয়, মাছ চাষের ঘের খননের নামেও কাটা হচ্ছে খালবিলের মাটি। আগে ঘের তৈরির জন্য সীমিত পরিসরে পাড় বাঁধা হতো। এখন গভীরভাবে মাটি কেটে তা ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক জলাধারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বিল ও পাশের আবাদি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে ইট ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কোন কোন জমি থেকে গভীরভাবে মাটি কেটে ইট ভাটায় সাপ্লাই চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে করে একদিকে কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানান, আবাদি বা কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করার কোনো বৈধতা নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।