ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
রাজশাহী শিরোইল এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও আন্তঃজেলা টার্মিনাল শহরের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বহুবছর ধরেই চলছে নানাকথন। একইস্থানে রেলওয়ে স্টেশন, আন্তঃজেলা, জেলা ও দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড হবার কারনে সার্বক্ষণিক লেগেই থাকে ট্রাফিক জ্যাম। এছাড়াও দূরপাল্লার বাসগুলো কাউন্টারের আশেপাশে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর দুইপাশে দাড়িয়ে থাকার কারনে জনভোগান্তি লেগেই থাকে। এই জনভোগান্তি হ্রাসকল্পে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরীর ১৭নং ওয়ার্ড অন্তর্গত বড়বনগ্রাম মৌজায় ২০০৪ সালের জুন মাসে ৭ দশমিক ৪১ একর জায়গার ওপর সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল। ২০১১ সালের জুন মাসে পরিবহন মালিকদের কাছে টার্মিনালটি হস্তান্তর করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। নতুন এই কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল, নগরীর কেন্দ্রে অবস্থিত শিরোইল বাস টার্মিনাল সরিয়ে কোলাহল ও জ্যামমুক্ত এলাকা শহরের উপকন্ঠে স্থানান্তর করা। যাতে করে শহরের যানজট, দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি কমে।
নির্মাণের দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও নানাকারনে নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর হয়নি দূরপাল্লা বাসের কাউন্টারগুলো। এখনও শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকেই বাস চলাচল করছে। শুধু শিরোইল বাস টার্মিনালই না, যাত্রী ওঠানোর টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নগরীর মূল পয়েন্ট রেলগেট ও ভদ্রা মোড়। ফলে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা, তৈরি হচ্ছে যানজট। আন্তঃজেলাভিত্তিক বাসগুলো কেন্দ্রিয় টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসলেও গন্তব্যস্থানের টিকেট ক্রয় করে বাসের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করেন নগরীর ভদ্রাস্থ বাস কাউন্টারগুলোর সামনে। যার কারনে নগরীর ভিআইপি এলাকা বলে বিবেচিত ভদ্রাতে জনভোগান্তি আর শব্দদূষণ অতিষ্ট এলাকাবাসি। ট্রাফিক জ্যাম ও জনভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবার আশায় শিরোইলস্থ ঢাকা বাস কাউন্টারগুলো কেন্দ্রিয় টার্মিনালে স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠণ ও নগরবাসির পক্ষ থেকে হয়েছে একাধিক মানববন্ধন।
অবশেষে দুই যুগ পর নগরবাসির সেই প্রতিক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্র। কিন্তু, পুরোদমে শেষ হচ্ছেনা সেই জনভোগান্তির রেষ। বাস মালিক সমিতির চাহিদার বিপরীতে কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালের পূর্বপাশের একাংশজুড়ে কাউন্টার নির্মাণে হাত দিয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষ। চাহিদার বিপরীতে প্রদেয় সংখ্যার দিক দিয়ে নির্মাণাধীন কাউন্টারগুলো অপর্যাপ্ত হবার কারনে বিভিন্ন ব্রান্ডের ও বড় আকৃতির বাসগুলো পাচ্ছেনা নিজস্ব কাউন্টার। তাই জনভোগান্তি শূণ্যের কোঠায় আসার তেমন কোন সম্ভাবনাও দেখছেনা বাসমালিকরা।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, জনভোগান্তি আর ট্রাফিক জ্যাম নিরসনকল্পে কাউন্টারগুলো স্থানান্তরের জন্য আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা সর্বনিম্ন ৩৬টি কাউন্টার চেয়েছিলাম। যদিওবা, নির্বাহী প্রকৌশলী মি. তারিক এর হিসেবানুযায়ী সেই সংখ্যা ৩৩টি। হেলাল আরো বলেন, ৩৬টি কাউন্টারের বিপরীতে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৩টি। এতেকরে, খুব একটা উপকৃত হবেনা দূরপাল্লার বাসগুলো। টার্মিনালের উত্তর ও পূর্বদিকের বাইরের অংশে হোটেল ও দোকান নির্মাণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেগুলো ভাড়া/লীজ দেয়া হয়েছে সেগুলো নিয়েও অভিযোগসমেত প্রশ্ন তোলেন পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা। ঐসকল দোকান ও হোটেলগুলো অপসারণ করে সেগুলো দূরপাল্লার বাস কাউন্টারের জন্য বরাদ্দ দিলে আমরা এখনি সেখানে স্থানান্তরিত হবো বলেও মন্তব্য মি. হেলালের।
জানতে চাইলে আরডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক সংবাদ সারাবেলাকে বলেন, কেন্দ্রিয় টার্মিনালের ভেতরে দূরপাল্লার বাসগুলো প্রবেশ করতে চাইছেনা। তাই আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই বাইরের অংশে আপাতত ১৩টি কাউন্টার নির্মাণ করছি। পরবর্তীতে চাহিদানুযায়ী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হতে পারে। টার্মিনালের বাইরের অংশে নির্মিত দোকান ও হোটেলগুলো আরডিএ কর্তৃপক্ষ কিভাবে কোনপন্থায় লীজ দিয়েছে, কিভাবে ভাড়া উত্তোলন করছে; আর কেনোইবা সেগুলোকে অন্যত্র সরাতে পাচ্ছেনা? এমন নানাপ্রশ্ন অনেকের মুখে। এসব প্রশ্নের যথার্থ ও সদুত্তর নিয়েও নানা টালবাহানা আছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ঘিরে। এমন এক প্রশ্নের বিপরীতে মি. তারিক বলেন, বিষয়টি তো আমার না; এটি বিস্তারিত বলতে পারবেন এস্টেট শাখা।
এস্টেট শাখার কোন কর্মকর্তাই বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও উক্ত শাখার সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের আগে দোকানগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। সাইদুল ইসলাম হিনো নামের একজন ঠিকাদার দোকানগুলো নির্মাণ করেছিলেন। দোকানগুলো নির্মাণ-বরাদ্দসহ অন্যান্য সকলকিছু শেষ হলেও আজ অবদি দাপ্তরিকভাবে ঠিকাদার সেগুলো আরডিএ কতৃপক্ষকে ঠিক মতো বুঝিয়ে দেয়নি। দোকানঘর নির্মাণের বিভিন্ন ব্যক্তির নামের তালিকা ধরিয়ে দেয় আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই ফর্দনুযায়ীই হয় বরাদ্দ। কিন্তু কোন পন্থায় সেগুলো বরাদ্দ হয়েছে, কত টাকা করে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে; কত বছরের জন্য সেগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এমন নানা প্রশ্নের যথার্থ উত্তর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। যখন যে চেয়ারম্যান এসেছেন, তখন তিনি তার মতো করেই এগুলো পরিচালনা করেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনো মাঝেমধ্যেই মিটিং-টিটিং হয়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে আবারো বসবে কর্তৃপক্ষ বলে জানায় এস্টেট শাখার সূত্র। বাইরের পজিশনগুলো এখনো ধোয়াশার মধ্যেই আছে বলেও মন্তব্য অনেকের।
কাজটি পেয়েছে হোসেন এন্ড ব্রাদার্স। কাজটি করছে রাবিহায় প্রপার্টিজের মালিক রুম্মন। রুম্মনের দাবি, লাইসেন্স দিয়ে তিনিই ড্রপ করেছিলেন সিডিউল। আগামী একমাসের মধ্যে কাজ শেষ হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই ঠিকাদার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
