× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কর্মচারীদের রাজত্বে চলে আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামার

ইমরান হোসেন, কিশোরগঞ্জ

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৫ পিএম । আপডেটঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৭ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামার এখন কর্মচারীদের দখলে। কৃত্রিম প্রজননের সাহায্যে উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে মেমো বিহীন বিক্রি করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মাসে লাখ লাখ টাকা। এতে এক দিকে যেমন গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছে অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দিনের বেলায় প্রতিদিন হাঁসের ডিম সরকার নির্ধারিত মূল্য অফিস কপিতে দৃশ্যমান থাকলেও গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত মো: হেদায়াতুল্লাহ নামের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রায়ই রাতের আঁধারে সরকারি মেমো ছাড়াই হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে সাংবাদিকদের একটি অনুসন্ধানী টিম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে একটি ভ্যানভর্তি ৫০০ পিস হাঁসের বাচ্চা মেমো ছাড়াই বিক্রি করে হেদায়াতুল্লাহ। অন্য একটি অটোতে হাঁসের বাচ্চা সহ জোড়গতিবেগে কিশোরগঞ্জ শহরের দিকে চালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিকদের দেখে তিনি আবার অফিসের ভিতর গিয়ে মেমো লিখেন। কেনো মেমো বিহীন বাচ্চা বিক্রি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। মো: হেদায়েতুল্লাহ ১৯৮৭ সালে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামারে যোগদান করেন। একই স্থানে তিনি ৩৯ বছর চাকরি জীবনে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

আউট সোর্সিং বিভাগের আরেক কর্মচারী মো: মারুফ। প্রায় ছয় বছর আগে মহিষপাল প্রকল্পের আওতায় তিনি যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই এলাকাবাসীর সাথে তিনি সখ্যতা গড়ে তোলেন। প্রায় এক বছর আগে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি অধ্যবধি পর্যন্ত বিনা বেতন চাকরি করেন। যার কোন অনুমোদন নাই। এখন প্রশ্ন হলো বিনা বেতনে প্রায় এক বছর যাবত কেনইবা তিনি চাকরি করেন? এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে এক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত ডিমের হালি ৩২ টাকা হলেও তিনি প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকা করে বিক্রি করেন। এতে তার প্রতি মাসে ভাল একটা এমাউন্ট পকেটে আসে এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ বাড়তি দাম দিচ্ছে অন্য দিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এসব অনিয়মের বিষয় কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামার ম্যানেজার আসমা আরা হোসনার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেমো ছাড়া বাচ্চা বিক্রি করা বা সরকার নির্ধারিত মূল্য ছাড়া ডিম বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। এ ধরণের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আব্দুল মান্নান বলেন, কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সরকারি হাঁস প্রজনন খামারটির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে আমরা তা খতিয়ে দেখব এবং অভিযোগ সত্য হলে আমার যে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা রয়েছে তার কাছে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের রিপোর্ট দাখিল করব।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.