অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দ্বীজেন্দ্র দেবনাথ, গৌরাঙ্গ দেবনাথ (পিতা: হরিমোহন দেবনাথ), মিলন দেবনাথ, নিমাই দেবনাথ (পিতা: রায়কুঞ্জ দেবনাথ) ও খোকন দেবনাথ (পিতা: নিকঞ্জ দেবনাথ)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই তা আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর, ঘরে থাকা নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বর্ণালংকারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবিকা কৃষিনির্ভর। ঘরে মজুদ রাখা চাল ও গোলাভরা ধানও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আগুন লাগার সময় তারা পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারেননি। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বই-খাতাও পুড়ে যায়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় মহালঙ্কা স্কুলের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বই সরবরাহ করে সহমর্মিতা প্রকাশ করে। এছাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, শুকনো খাবার, চাল, কম্বল এবং পরিবারপ্রতি নগদ ৬ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর ভুইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মাসুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে পরিবারগুলো পুনরায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।