পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বছরের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।
পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ইতিমধ্যে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। অল্প দিনের ব্যবধানে এ মুড়ি কাটা পেঁয়াজের ব্যাপক দর পতন হয়েছে।
ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা বাজারের বৃহৎ পেঁয়াজের হাটে সরজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার দুদিন পেঁয়াজের হাট বসে আর এই হাটে শতশত মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বিক্রির জন্য যায়। মধ্যরাত থেকে কৃষক ও পাইকাড়দের পেঁয়াজ বেচা-কেনার সরগরম হয়ে ওঠে। সাধারণত সকাল পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আশা পাইকাড়রা পেঁয়াজ কিনতে থাকে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় ট্রাকে চলে যায় পাইকাড়দের ঘরে।
ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, চলতি বছরে পেঁয়াজের চাষাবাদ ভালো হয়েছে। সার ও কীটনাশকের দাম বেশি এবং পেঁয়াজ চাষাবাদ করার শ্রমিকের মূল্য অনেক বেশি কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের এলাকার কৃষকরা পেঁয়াজের সঠিক দাম পাচ্ছে না। পেঁয়াজের এই দামে আমরা অনেকটাই হতাশ। এ মুড়ি কাটাতে আজ বেশিদিন ঘরে রাখা সম্ভব না পঁচে যাওয়ার ভয় থাকে তাই দাম কম হলেও বিক্রি করতেই হবে।
ভাঙ্গা বাজারের পেঁয়াজ হাটের আড়তদার মো. আক্তার মুন্সী (৪৫) বলেন, ভাঙ্গা পেঁয়াজ হাটে রমজানের আগের হাটে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ প্রকারভেদে বিক্রি হয়েছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা, আর আজ সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেই একই মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। এমন দাম কমলে কৃষকের মাথায় হাত পড়বে।
ফরিদপুর কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি বছরে এ জেলায় পেঁয়াজের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, পেঁয়াজ চাষের জন্য এবছর আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় পেঁয়াজচাষিরা পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন।