× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এলজিইডি'র সড়ক প্রকল্পে ‘কমিশন বাণিজ্য’, নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেনের বদলির আদেশ

এম. এইচ রুবেল, ঝিনাইদহ

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৪ পিএম

ছবি: ফাইল।

ঝিনাইদহে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি'র একাধিক সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, তড়িঘড়ি কাজ এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের মধ্যেই নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ার হোসেনকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তদারকি সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, মনোয়ার হোসেনের দায়িত্বকাল জুড়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কার্যাদেশে কমিশন বাধ্যতামূলক করা হতো। বিল অনুমোদন বা পরিশোধ না হলে বিলম্ব ঘটানো হতো এবং ভবিষ্যৎ দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিত দেওয়া হতো। অনেক প্রকল্পে সঠিক দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে টাকা দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো।

এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে জানা গেছে, সরোজগন্জ চরপাড়া রাস্তা (ভায়া বাজার গোপালপুর- হলিধানী, শাখারিদহ ও দরিবিন্নী) প্রকল্পে ৮ কোটি ৬২ লাখ টাকায় ৫.০৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাতের আঁধারে নিম্নমানের পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করা হলেও পিচ ঢালাই কয়েক দিনের মধ্যেই উঠে গেছে। 

একই অভিযোগ শৈলকুপা উপজেলার বিত্তিপাড়া থেকে রাজাপুর পর্যন্ত পাকাকরণে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পেও উঠেছে। সেখানে ব্যবহার করা ইটের মধ্যে নিম্নমানের পোড়া ইট থাকার কারণে হাতেই ভেঙে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার বানিয়াবহু চাঁন্দো আইয়ুব মোড় থেকে ঘোড়াশাল উত্তরপাড়া পর্যন্ত ২ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক পাকাকরণে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পেও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

কালীগঞ্জ উপজেলার রোকনপুর থেকে বাবরা দাসপাড়া পর্যন্ত ৪৪০ মিটার পিচ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে কাদামাটিযুক্ত বালি ও পুরোনো ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এ, টি, এস ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, কাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ফলে ঠিকাদাররা নিজেদের মতো করে কাজ সম্পন্ন করেছে। 

জানা যায়, দীর্ঘদিন ঝিনাইদহে কর্মরত থাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাধিকবার অনিয়মের বিষয়ে অবহিত করা হলেও মৌখিক আশ্বাসের বাইরে তদন্ত বা কাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এলজিইডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক স্বার্থে তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশে অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় মহলে এটি অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নেওয়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। 

সচেতন মহল বলছেন, এলজিইডির তদারকির অভাব এবং কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি অর্থ লুটপাট করতে উৎসাহিত করছে। এসব প্রকল্পে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে।

তাদের দাবি, শুধু বদলি নয়, ঝিনাইদহের সব চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.