জীবননগরে হাসাদাহ এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইসলামী ব্যাংকের সামনে দিয়ে ঘুরে জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর এবং পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়ার্দার প্রমুখ। বক্তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর পূর্ব বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বৈঠকের কথা থাকলেও সন্ধ্যার দিকে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মৃত ওহাবের ছেলে মফিজুর রহমান (৪৫), তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৫০), মৃত গোপাল মণ্ডলের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০) এবং হাপু আহত হন। আহতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে সংঘর্ষে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬), তার পিতা জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং তৌফিক হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হাফিজুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৩টায় সুটিয়া গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।