পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১১২টি যাত্রীবাহী কোচ। এ লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা–তে চলছে দ্রুতগতির মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম। ঈদের আগে এসব কোচ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনবহরে সংযুক্ত করা হবে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি শপে শ্রমিকদের দম ফেলার সুযোগ নেই। নির্ধারিত আট ঘণ্টার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন তারা; এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও চলছে কর্মব্যস্ততা। ইতোমধ্যে মেরামত সম্পন্ন হওয়া ৭৪টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারখানায় প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জনবল সংকটে বেশিরভাগ শপ দীর্ঘদিন ধরে আংশিক অচল রয়েছে। অনুমোদিত ২ হাজার ৮৫৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ৭১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক। এ সংকটের কারণে প্রতিদিনের ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদযাত্রার জন্য ১১২টি কোচ প্রস্তুত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে বাকি কোচগুলো পরিবহন বিভাগে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কারখানার শ্রমিক শিরীন সুলতানা বলেন, “ঈদের সময় আমাদের বাড়তি কাজ করতে হয়। শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করছি। তবে আমাদের শ্রমের কারণে মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদ করতে পারবে—এই ভাবনাতেই আমরা খুশি।”
ক্যারেজ শপের শ্রমিক আলামিন ইসলাম জানান, “ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কোচ প্রস্তুত করছি। শ্রমিক কম থাকায় বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, “জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা ও উপকরণ সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এবারের ঈদযাত্রায় কারখানা থেকে ১১২টি কোচ যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে ১০০টি সিডিউল ও ১২টি অতিরিক্ত কোচ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তুত কোচগুলোর মধ্যে ৬৬টি ব্রডগেজ এবং ৪৬টি মিটারগেজ, এবং ১৪ মার্চের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতি বছরই কোচ মেরামত ও বহর বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এবারও সৈয়দপুর কারখানার শ্রমিকদের অতিরিক্ত শ্রমে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।