লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা-এর ১ নম্বর ওয়ার্ডে নদীর পাড় মসজিদসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী তীরে চরম অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে ৭৫ বছর বয়সী ছালেহা বেগমের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয়।
প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর থেকেই শুরু হয় তার একাকী সংগ্রাম। কোনো সন্তান না থাকায় পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজনও নেই। নিজের নামে নেই জমিজমা কিংবা স্থায়ী বসতভিটা। বর্তমানে স্থানীয় এক সহৃদয় ব্যক্তির দেওয়া পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ একটি ঘরের কোণেই তার বসবাস। ভাঙা টিনের ছাউনি, সুপারি পাতার বেড়া আর মাটির মেঝে এটুকুই তার সম্বল। একই ঘরে রান্না, খাওয়া ও ঘুম সবকিছুই সেরে নিতে হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ তার জীবনে নিত্যসঙ্গী। শীতের তীব্রতা, গ্রীষ্মের দাবদাহ কিংবা বর্ষার ঝড়বৃষ্টি সবই সহ্য করতে হয় অসহায় এই বৃদ্ধাকে। গত বছরের জলোচ্ছ্বাসে নদীর পানি ঘরে ঢুকে পড়লে সারারাত পানির মধ্যে বসে কাটাতে হয়েছিল তাকে। এতে তার পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। চিকিৎসার সামর্থ্যও নেই তার।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ছালেহা বলেন, “আমার তো আর কেউ নাই বাবা। একটা ছোট ঘর পাইলে বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাইতে পারতাম। রাত হলেই ভয় লাগে কখন যে ঘরটা ভেঙে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধা ছালেহা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনযাপন করছেন। অনেক সময় দুবেলা খাবারও জোটে না। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে তবেই তার চুলায় আগুন জ্বলে। তাদের দাবি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে যদি একটি টেকসই ঘরের ব্যবস্থা করা হয়, তবে অন্তত জীবনের শেষ সময়টুকু নিরাপদে কাটাতে পারবেন তিনি।
এলাকাবাসীর মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে একজন অসহায় বৃদ্ধার মুখে হাসি ফোটানো কঠিন নয়। একটি ছোট ঘরই তার স্বপ্ন, একটি নিরাপদ আশ্রয়ই তার শেষ আশা।
নদীপাড়ের ভাঙাচোরা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছালেহার কণ্ঠে শোনা যায় দীর্ঘশ্বাস মেশানো আবেদন “আমার বেশি কিছু লাগে না বাবা, একটা ঘর হলেই হইবো।”
মানবিক সমাজ গঠনে এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হৃদয়বান মানুষের দ্রুত উদ্যোগই পারে ছালেহার মতো মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তির আলো পৌঁছে দিতে।