চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় গলা কেটে হত্যাচেষ্টায় গুরুতর আহত শিশু জান্নাতুল নিসা ইরা (৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচা সাংবাদিক রমিজ উদ্দিন জানান, অপারেশনের পর জান্নাতকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। চিকিৎসকরা গলায় স্থাপিত যন্ত্র পরীক্ষা করে ব্লক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্র সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়া হয়। ভোররাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিবারকে জানিয়ে দেন, জান্নাত আর বেঁচে নেই।
তিনি আরও জানান, সকাল ১১টায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে জান্নাতুল ইরার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
নিহত ইরা কুমিরা ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের মো. মাইনুলের কন্যা।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির মৃত্যুতে পুলিশও মর্মাহত। তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী ছিলাম শিশুটি সুস্থ হবে। কিছুটা স্বাভাবিকও লাগছিল, ইশারায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। তার সুস্থতার পর জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল আমাদের। কিন্তু তার আগেই সে চলে গেল। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাষ্টারপাড়ায় জান্নাতের বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয়রা মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। আসর নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় যুবনেতা ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, “আমরা লজ্জিত ও মর্মাহত। এমন পাশবিক কাজ কোনো মানুষ করতে পারে না। খুনিকে দ্রুত শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি জানাই।”
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ রোববার পরিচিত কেউ জান্নাতুল নিসা ইরাকে বেড়ানোর কথা বলে ইকোপার্কে নিয়ে যায়। ধারনাকরা হচ্ছে, সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসনালী কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মৃত ভেবে পাহাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় খুনি দুর্বৃত্তরা। পরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে শিশুটি ঝোপ থেকে বের হয়ে পার্কের রাস্তায় এলে এক গাড়িচালক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে দীর্ঘ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন জান্নাতুল ইরা।