× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রামেবিতে সংবাদ সম্মেলন

সরকারি ক্রয় বিধিমালার পরিপন্থী কাজ করার জন্য উপাচার্যকে ঠিকাদারের অনৈতিক চাপ ও হুমকি-ধামকি

রাজশাহী ব্যুরো

০৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৯ পিএম

বুধবার (৪ মার্চ) রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। উপাচার্যের দাবি, দুটো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনৈতিক পন্থায় প্রকল্পের কাজ না পেয়ে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য উপাত্ত দিয়ে উপাচার্জের বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। প্রকল্পের কাজ তাকে না দেয়া হলে শারিরীক হেনস্থা ও প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় অভিযুক্ত ঠিকাদার। সরকারি ক্রয় বিধিমালার পরিপন্থী কাজ করার জন্য উপাচার্যকে অনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক ক্ষমতাও দেখানো হয় বলে অভিযোগ উপাচার্য জাওয়াদুল হকের।

রামেবির অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিঁনি বলেন, একটি পরিকল্পিত মিথ্যাচার ও গভীর ষড়যন্ত্রের সত্যতা উন্মোচন করতে আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) প্রশাসনকে জড়িয়ে ‘প্রকল্পের কাজে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ সংক্রান্ত যে সংবাদটি গণমাধ্যমে পরিবেশন করা হয়েছে, তা কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের চরিত্রহননের অপচেষ্টা।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই সংবাদের কোনো সত্যতা বা নৈতিক ভিত্তি নেই। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জেনিথ কর্পোরেশন’ এবং ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই দুটি প্রতিষ্ঠান অদ্যবধি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই করেনি। যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশই নেয়নি, সেখানে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার গল্পটি যে কতটা সাজানো ও হাস্যকর, তা যে কেউ সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন। মূলত এই অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পারার ক্ষোভ।

জেনিথ কর্পোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপুকে ষড়যন্ত্রের মূল হোতা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ঠিকাদার টিপু দীর্ঘদিন ধরে আমাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনৈতিক ও বেআইনিভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন টেন্ডার ডাটা শিট বা টিডিএস (ঞউঝ) তার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী সাজাতে হবে, যা সরাসরি পিপিআর (চচজ) বা সরকারি ক্রয় বিধিমালার পরিপন্থী। পিপিআর বিধি অনুযায়ী বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ রাখার নিয়ম থাকলেও, তিনি তা কমিয়ে ৫০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য আমাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেন। যখনই আমি এবং আমার প্রশাসন নিয়মবহির্ভূত এই আবদার প্রত্যাখ্যান করেছি, তখনই ঠিকাদার টিপু আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। গত ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঠিকাদার আমার এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ, কল এবং একাধিক ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে সরাসরি হুমকি দেন যে, বর্তমানে তারাই দেশ পরিচালনা করছেন এবং তাদের শর্ত মোতাবেকই সবকিছু করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে বলেও দাবি উপাচার্যের।

ঠিকাদার টিপু এবং তার সহযোগীরা আমাকেসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক, সেকশন অফিসার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তারা সরাসরি হুমকি দিয়েছেন যে, তাদের চাহিদা মোতাবেক কাজ না দিলে আমাদের ওপর ‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট’ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। রামেবির কতৃপক্ষের কাছে তাদের এই অনৈতিক আবদার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির যাবতীয় ডিজিটাল প্রমাণাদি সংরক্ষিত রয়েছে, যা আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবগত করেছি।

এরই ধারাবাহিকতায় ‘এম জামাল কোং’ নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই উদ্দেশ্যে স্পেসিফিকেশন এক্সপেরিয়েন্স কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং মন্ত্রণালয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। বিষয়টি নিয়ে যখন মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে জানতে চায়, তখন আমরা সরকারি বিধি-বিধানের সুনির্দিষ্ট ধারা উল্লেখপূর্বক আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের কারিগরি ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং চলমান টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রাখার নির্দেশনা প্রদান করে।

কুচক্রী মহলটি প্রতিটি স্তরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সফলতা না পেয়ে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে রামেবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কোনো হুমকিতে আমরা বিভ্রান্ত হবো না এবং নীতির প্রশ্নে আপোষ করবো না। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবং কর্মকর্তাদের জীবননাশের হুমকির প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.