লক্ষ্মীপুরে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুই দিন পার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় বুধবার (৪ মার্চ) আদালতে মামলা দায়ের করেন শিশুটির মা।
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ মার্চ) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লামচরী এলাকার ‘মারকাজুল ফোরকান ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসা’র ছাত্র ওয়াসিম রহমান (০৭) পড়া না পারার অজুহাতে শিক্ষক মো. মুহাইমেনুল (২৪), ওরফে ছোট হুজুরের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং আছাড় দেওয়া হয়।
দুপুরে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরলে তার মা নাজমুন নাহার দ্রুত তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে (রেজি নং– ১৪৪৪/৩১)।
ঘটনার দিনই শিশুটির মা লক্ষ্মীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে দুই দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের দাবি, তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটাতে বাংলাভিশন ও এনটিভিসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করছে। এসব পরিচয় ব্যবহার করে আইনি জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে নাজমুন নাহার লক্ষ্মীপুর সদর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০৭/৫০৬(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদিনী নাজমুন নাহার বলেন, “আমার শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ মাদ্রাসায় এর আগেও এক শিক্ষক কর্তৃক এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছিল এবং সে ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কারাভোগ করেন। পুনরাবৃত্ত এমন ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালক মাওলানা জোবায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বর্তমানে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়নি।” তবে পূর্বের ঘটনার বিষয়ে তিনি জানান, সেটি তৎকালীন পরিচালক মাওলানা আজিজুর রহমানের সময়ের ঘটনা।
লক্ষ্মীপুর সদর থানা সূত্র জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি