বাগেরহাটে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও সহস্রাধিক নারী পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের প্রধান রানী হাওলাদার। বুধবার সন্ধ্যায় সদরের রনবিজয় পুর এলাকার হিজড়াদের আস্তানায় এই ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। শুধু ঈদ বস্ত্র বিতরণ নয়, প্রত্যেকটি কোরবানির ঈদে পশু জবাই করে দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করেন তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাবার ও নগদ টাকা বিতরণের দৃষ্টান্ত রয়েছে তার। অত্যন্ত সদালাপী রানী হিজড়া গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষের সেবা ও তাদের সহযোগিতা করে ইতিমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।
রানী হিজড়া বলেন, বর্তমানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ঈদ উৎসবে সম্পদশালীরা সীমাহীন আনন্দ উল্লাস করে থাকে। পাশাপাশি খেটে খাওয়া গরীব দুঃখী মানুষের ঈদ উৎসব করার সামর্থ্যই থাকে না। অথচ এই হাসি এই খুশির দিনে মানুষে মানুষে কোন পার্থক্যই থাকার কথা ছিল না। ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের পরিবারের জন্য এক প্যাকেট সেমাই ও চিনির ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে হয় সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নতুন কাপড় সংগ্রহ করা অনেক দুরূহ ব্যাপার হয়ে ওঠে। ঈদের দিন আর সাধারণ দিনের মধ্যে তাদের কোনো পার্থক্য থাকে না।
সমাজের ধনী ও সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রানী হিজড়া বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়ানো আপনাদের দায়িত্ব। সমাজের ধনী-গরিবের সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে ঈদ উৎসব তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ও উদ্দেশ্য সার্থক করে তুলতে হবে। মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে হবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে গরিব অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এই ঈদেও সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেছি। সামনে তাদের মাঝে সেমাই চিনি বিতরণ করা করব। আমি আমার মানবিক দায়িত্ব পালন করে চলেছি। সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছি। ধনী-গরীব সকলে মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিব। ঈদ পরিণত হবে উৎসবে, সবার মুখে থাকবে হাসি বলে জানান হিজড়া প্রধান রানী হাওলাদার।