গ্রামের মেঠোপথ আর ঝোপঝাড়ে অযত্নে বেড়ে ওঠা ভাঁট ফুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য বসন্তের প্রকৃতিতে নীরবেই বিলিয়ে যাচ্ছে। ফুলের আশপাশে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছির দল। ফাল্গুনের মৃদু বাতাসে যখন দুলে ফুল, তখন এক মোহনীয় সৌন্দর্যের দৃশ্য দেখা যায়।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গ্রামের মেঠোপথ আর ঝোপঝাড়ে এখন এই ফুলের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার দুই ধারে, পুকুরপাড়ে, ঝোপঝাড়সহ নানা পরিত্যক্ত জায়গায় ভাঁট ফুল প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নিয়ে শ্বেত-শুভ্রতায় ফুটেছে থোকা থোকা ফুল। অনেকটা নীরবে বিলিয়ে দিচ্ছে সৌন্দর্য। হঠাৎ সৌন্দর্য দেখে থমকে যাওয়া পথিক তৃপ্ত হয় রূপ দেখে।
ভাঁট গাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দণ্ডায়মান। সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয় এ ফুলের গাছ। এ গাছের পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার আকৃতির ও খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফুল ফোটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণ আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত ফুল ফোটে। এ ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এ ফুল। ফুল ফোটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে।
জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, একসময় আরও বেশি ছিল ভাঁট ফুল। এখন ফুলের মৌসুমে দেখে দারুণ লাগে। কাছ থেকে এই ফুলের সৌন্দর্য দেখলে ভীষণ ভালো লাগা কাজ করে মনের মধ্যে।
একই এলাকার ফজলুর রহমান বলেন, ভাঁট ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি নানান ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। গ্রামের মানুষ নানা কাজে এটি ব্যবহার করে থাকেন।