× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আশার মুকুলে আমের অর্থনীতি, দামে অনিশ্চয়তায় চাষিরা

এরশাদ আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৯ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাতাসে এখন নতুন মৌসুমের আমেজ। গাছে গাছে সোনালি মুকুলে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা মুকুল ছড়িয়ে দিচ্ছে মৌ-মৌ ঘ্রাণ আর সম্ভাবনার বার্তা। শীতের বিদায়ের পর অনুকূল আবহাওয়ায় আগাম মুকুলে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। তবে ভালো ফলনের প্রত্যাশার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের আশঙ্কাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের।

মুকুল ঘিরে এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষি ও বাগানমালিকরা। সেচ, স্প্রে, রোগ-পোকা দমন ও বাড়তি পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখতে চান না তারা। কারণ অভিজ্ঞ চাষিদের মতে, মুকুলের এই সময়টিই নির্ধারণ করে পুরো মৌসুমের লাভ-লোকসান।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা গেলো বছর ছিল ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর। আর গতবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে আমের মুকুল এসে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গত বছরের তুলনায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৮হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, গতবছর ১৫২ দশমিক ৮৩৪ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছিল। এবার তার থেকে বেশী হবে  রপ্তানি হবে বলে তারা ধারণা করছেন।

হোসেনডাঙা এলাকার উদ্যোক্তা বুলবুল  আহম্মেদ বলেন,‘শীত বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আগাম মুকুল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় বালাই ব্যবস্থাপনা করছি, যাতে ফলন ভালো হয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়।’
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার আমচাষি মাসুদ জানান,‘সময়মতো শীতের বিদায়, কুয়াশাহীন পরিবেশ, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত রোদের কারণে এবার প্রতিটি বাগানেই ভালো মুকুল এসেছে। তিনি বলেন, এখন যদি ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বড় কোনো রোগবালাই না আসে, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

গোমস্তাপুর উপজেলার আম উদ্যোক্তা রুবেল আলী বলেন,‘মুকুলের এই সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। তাই দিন-রাত সেচ, স্প্রে আর পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েই আমাদের বড় দুশ্চিন্তা।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘আম শুধু একটি ফল নয়-এটি একটি অর্থনীতি। এই আমকে ঘিরেই হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এই শিল্প আজ চ্যালেঞ্জের মুখে।’

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শামীম খান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বালাইনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়লেও কাক্সিক্ষত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘মুকুল থেকে কাক্সিক্ষত ফলন পেতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক মাত্রায় বালাই ব্যবস্থাপনা, রোগ-পোকা দমন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।’ 

কৃষি বিভাগ ও আম উদ্যোক্তারা বলছেন, আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা, বিকল্প পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এসব দাবি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগাম মুকুলে আমের রাজধানীতে সম্ভাবনার সুবাস ছড়ালেও ন্যায্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের কথা জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, ‘কৃষকদের বালাইনাশক যত্রতত্র মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার না করে জৈব বালাই নাশক এবং ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ এবং পুষ্টিকর আম উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি। একই সঙ্গে তাদেরকে সুষম মাত্রার সার প্রয়োগ করতে বলছি।’

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.