× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মৌলভীবাজারের পাম্পগুলোতে তেল কেনার হিড়িক, পাম্প মালিকদের সংশয়, ফুরিয়ে আসছে অকটেনের মজুদ!

মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

০৭ মার্চ ২০২৬, ১৬:০০ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল সহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ও চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সুযোগে নানা তথ্য, গুজব সহ জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সারাদেশের মতো মৌলভীবাজার জেলায়ও। এ পরিস্থিতিতে জেলা সদর সহ পুরো জেলার পেট্রোল পাম্প গুলোতে রীতিমতো তেল কেনার হিড়িক পরেছে। পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমি শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত জেলা সদরের মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান ফিলিং স্টেশন, রহমান ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স এম এফ ফিলিং স্টেশন সহ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি পাম্পেই অকটেন,পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করতে মোটরসাইকেল,কার,বাস,ট্রাক সহ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহনের প্রচন্ড ভীড়। তবে অনেক পাম্পে মোটর সাইকেলে ১শত টাকার বেশি অকটেন-পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না চালকরা। গুজবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে কয়েকটি পাম্পে শুক্রবার মধ্যরাতেই শেষ হয়ে গেছে অকটেনের মজুদ।  

জানা যায়, সরকারের জ¦ালানি খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিসিপি) কর্তৃক সদ্য জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে ২ লিটার তেল ক্রয়ের বিধান থাকলেও অনেক পাম্পে ১শত টাকার বেশি মিলছেনা। এর কারণ হিসেবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন তেলের সংকট রয়েছে। আর ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটার তেল। মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপের ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল ক্রয় করার আদেশ থাকলেও অনেক জায়গায়ই সে আদেশ অনুযায়ী মিলছেনা তেল। 

মৌলভীবাজার জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির দ্বায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫০টির অধিক পেট্রোল পাম্প রয়েছে। পাম্প গুলোতে বিপিসি কর্তৃক পূর্বের যে দাম ছিলো নির্ধারিত সেটিই বহাল আছে, মাসের প্রথম সাপ্তাহে দাম নির্ধারণ হয় ,মাসের মধ্যভাগে দাম বাড়ার কোন সুযোগ নেই। নতুন করে দাম নির্ধারণের কোন নির্দেশনা আপাদত নেই বলেও জানা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। বিশেষ কোন কারণে যদি দাম বাড়ে তাহলে সেটা গেজেট আকারে আসবে এবং সেটি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হবে।

জানা যায়, চলমান পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলার অনেক উপজেলার পাম্পগুলোতে তেলের স্টক সীমিত থাকে। কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় একধরণের গুজব তৈরি হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় তেল উত্তোলন করার কারণে স্টেশনে অকটেন-পেট্রোল শেষ হয়ে যাচ্ছে, স্টক ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোন পাম্প বন্ধ হয়নি। 

মৌলভীবাজার শহরের সাজ্জাদুর রহমান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা হয় সুনামগঞ্জের কৌসিক দাস নামে এক তরুণের সাথে। তিনি এফআইডিভি নামক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাইকেলের তেল শেষ হওয়ায় তেল ক্রয় করতে এসেছি। আমার বাড়ি সুনামগঞ্জ,আমার পক্ষে তো ২শত টাকার অকটেন কিংবা পেট্রোলে এতো লম্বা পথ পারি দেয়া সম্ভব না। সুতরাং এই নির্দেশনা মানা আমার মতো অনেক চাকুরীজীবির জন্য কষ্টকর। অবস্থা এখন এমন যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২শত টাকার পরিবর্তে ১শত টাকার তেল কিনতে হচ্ছে।  

তুহিন আহমদ নামে এক মোটর সাইকেল চালক বলেন, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এ নির্দেশনা মানতে তো হবে। আমাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। নাগরিক হিসেবে সরকারের তরফে যেভাবে আদেশ আসবে মানতে হবে। এছাড়া উপায় নেই। 

সাজ্জাদুর রহমান ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার সুভাষ দাস বলেন, ১শত টাকার বেশি তেল দিতে পারছিনা, কারণ আমাদের অকটেনের মজুদ শেষ হয়েে গেছে। যেকোন সময় তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

তিনি বলেন, তেলের সংকটের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা, এধরণের কোন তথ্য এখনো আসেনি।

মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী ফারুক আহমদ বলেন, যে পরিমাণে তেলের মজুদ আছে আজ শনিবার রাতের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাবে। আমরা যোগাযোগ করেও তেল পাচ্ছিনা। 

মৌলভীবাজার জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমেদ রহমান বলেন, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গুজব তৈরি করে মানৃুষের জটলা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থাকা অবস্থায়ও দেশে তেলের মজুদ থাকে। আমাদের বিপিসি কর্তৃক তেলের যে মজুদ থাকে সেট নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেরের মজুদ আছে। আমাদের স্থানীয়ভাবে তেলের উত্তোলনের যে রিসোর্স আছে, যে পরিমাণে জ¦ালানি উত্তোলন হয় সেটি পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় করছেন অনেকে। আবার অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.