ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
ঝিনাইদহে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ের কার্যক্রমে অঘোষিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ঝিনাইদহ বিআরটিএ সার্কেলে চুক্তিভিত্তিক স্পিড গভর্নর সিল মেকানিক হিসেবে যুক্ত থাকলেও একই সঙ্গে মাগুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দুই প্রতিষ্ঠানে একযোগে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশাসনিক ও স্থানীয় মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে বাবুল হোসেনকে নিয়মিত দেখা যায়। যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে তাকে সক্রিয়ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন যোগদানকারী কর্মকর্তারাও অনেক সময় তার মতামত বা সমর্থন ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঝিনাইদহ শহরের অগ্নিবীণা সড়কে শামীমা ক্লিনিকের পেছনে বাবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রায় আট শতক জমির ওপর একটি দুইতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ভিত্তি, কলাম ও বিমের কাজ শেষ করে মূল কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। অধিকাংশ ইটের দেয়াল নির্মাণ এবং ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখনো প্লাস্টার, দরজা-জানালা স্থাপন, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং স্যানিটারি লাইনের মতো ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। স্থানীয় নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবে সম্পন্ন কাজের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বাবুল হোসেন বর্তমানে মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ওই কলেজের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার।
কলেজের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিনি নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় সপ্তাহে বা মাসে একদিন কলেজে গিয়ে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজের ভেতরেও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, “বাবুল হোসেন নামে এখানে কেউ কাজ করেন কি না—এ বিষয়ে আমার জানা নেই।”
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সহকারী পরিচালকের কক্ষে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইলপত্রে তাকে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়।
সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক বিলাস সরকারের আমলে দেওয়া একটি মেয়াদোত্তীর্ণ নিয়োগপত্র দেখিয়ে বাবুল হোসেন এখনও কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাবুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং বাবুল হোসেনের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
