× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঈশ্বরদীতে বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা সিরাজের ষড়যন্ত্রে হাবিবের

পরাজয় পাল্টা পাল্টি দোষারোপ করে কর্মসুচি পালন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

০৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৯ পিএম

সদ্য সমাপ্ত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার ৫ টি আসনের মধ্যে তিনটিতে ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব নিজেই দায়ী। এমনকি নিজের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হাট, ইটভাটা, চর ও পদ্মানদীর বালু উত্তোলন, কমিটি বিক্রয়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরনের কারণে নিজেই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে শোচনীয়ভাবে জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের নিকট পরাজিত হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক অকালপক্ষতা, অদূরদর্শিতার ও অযোগ্যতার কারণে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াসহ গোটা পাবনা জেলায় বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই কারণে দ্রুত পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে পাবনা জেলা বিএনপি থেকে হাবিবুর রহমান হাবিবকে অপসারণের দাবী করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। 

গত শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামের নিজ বাড়িতে বিএনপির একাংশের নেতাকমর্ীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট এই দাবী জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করে বলেন, সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংসদ নির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিব দলীয় মনোনয়ন পেয়ে স্থানীয় বিএনপির জ্যৈষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন রুপ যোগাযোগ করেনি। বিএনপির একটি বৃহৎ অংশের জ্যৈষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। চরমভাবে অপমান করেছেন। বহিষ্কার করিয়েছেন। নির্বাচনের সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে হাট-ঘাট,বালুমহাল, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থেকে মাটি ও বালু কাটা, ইট ভাটা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও চঁাদাবাজির মতো অপকর্ম করেছেন। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও জনসাধারণ হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই কারণে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর নিকট তাঁর শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। এই অযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে পাবনা জেলা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালি হওয়া সম্ভব নয়। তাই জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি দ্রুত বিলুপ্ত করে যোগ্য ও নতুন নেতৃত্ব আনার দাবী করেন সিরাজ সরদার। 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর সিরাজুল ইসলাম সরদারের এই সংবাদ সম্মেলন ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের পক্ষে কাজ করে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো নিয়ে ফুসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সর্বত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে চলতে সিরাজুল ইসলাম সরদারকে নিয়ে কটাক্ষ ও  বিদ্রƒপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা রকমের মন্তব্যজনক পোস্ট। লেখালেখি। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব নিজেও তার ফেসবুক আইডিতে সিরাজুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে হরেক রকম মন্তব্য করে পোস্ট দিয়েছেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বিএনপির সিরাজ ও হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে রেশারেশি ও উত্তেজনা। 

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সিরাজ সরদারের এমন দাবী ও মন্তব্যের পরই পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষ নিয়ে পরাজিত হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর ফেসবুক আইডিতে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের বিগত আওয়ামীলীগের ১৭ বছর শাসন আমলের রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্বরুপ আওয়ামীলীগের সাবেক ভুমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ও সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকান্ডের একাধিক ছবি নিজের ফেসবুকে 

পোস্ট দিয়ে লিখেছেন-

পাবনা জেলা বিএনপি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেই তাহলে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে। একজন দালাল সিরাজুল ইসলাম সরদার, যিনি কিনা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কোনদিন মাঠে ছিলেন না । তিনি আবার নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন।

পাবনা-৪ আসনের তৃণমূলের হৃদস্পন্দন হাবিবুর রহমান হাবিবের বিজয় রুখতে এই মীরজাফর সিরাজুল ইসলাম সরদারের নগ্ন ষড়যন্ত্র ছিল মূল কারণ! দীর্ঘদিন ধরে ধানের শীষের খেয়ে দলের পিঠে ছুরি মারা এই সুবিধাবাদী নেতা জামাতের দালাল হিসেবে সরাসরি মাঠে নেমেছিলেন। যার নিজের ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের চেয়ে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বেশি পড়েছে, যার হাত ধরে ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের হয় এবং প্রার্থীর কুশপুতুল দাহ করা হয়, সেই সিরাজুল ইসলাম সরদার বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুকে দঁাড় করিয়ে দলের ভোট ভাগ করার হীন নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন।

রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপির সাথে গোপন আঁতাত আর দিনে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চললেও তার আসল রূপ এখন সবার সামনে পরিষ্কার। ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মাটি ও মানুষের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে এই বিট্রেয়ার চক্রটি গত নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। শহীদ জিয়ার আদর্শ আর ধানের শীষের সম্মান রক্ষায় এই বেইমান, ষড়যন্ত্রকারী এবং পদলেহী সিরাজুল ইসলাম সরদারসহ সকল কুচক্রী মহলকে অনতিবিলম্বে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি। দলে কোনো বেইমানের জায়গা নেই, মীরজাফর হঠাও বিএনপি বাঁচাও! 

সিরাজুল ইসলাম সরদারের সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগের বিষয়ে সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক রাবির সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিগত আওয়ামীলীগের সময়কারের ১৭ বছরে সিরাজুল ইসলাম সরদারের রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখেছেন। নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করেছেন। সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন। ধানের শীষের পরাজয়ের পেছনে সক্রিয়ভাবে ভুমিকার রেখেছেন। এখন নতুন করে আলোচনায় আসতে একটি চক্রকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও অপ্রচার শুরু করেছেন। এসব বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। 

সাবেক যুবদল নেতা নুরে আলম শ্যামল বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরদার একজন রাজনৈতিক বাটপাট। বিগত দিনে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী ও এমপির সঙ্গে আঁতাত করে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.