বন্যা মৌসুমে খড়ায় পানিতে তলিয়ে যায় সব বালুচর। একসময় এ নদীতে আশপাশের মানুষ মাছ ধরে জীবন যাপন করতো। বর্তমানে বালুচরে পরিপুর্ণ হওয়ায় এবং নদীতে পানি না থাকায় নদের পাশের মানুষের পেশাও বদলে যাচ্ছে। নভেম্বর, ডিসেম্বরের দিকে পানি কমে এলে বালুচর বোরো চাষের উপযোগী তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এসব মানুষ। চলে ধান চাষ।
৮ মার্চ সোমবার সরেজমিনে এসব এলাকায় গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, পাখিউড়া ঘাটে হলহলিয়া নদীর বুকে চরের জমিতে বাইটকামারীর কবির হোসেন নামের একব্যাক্তি বোরো ধান চাষ করেছে। পাশেই অন্য ব্যাক্তিরা জব্বার আলী, কফিল উদ্দিন, আক্কাস আলী, আমিনুল হক জানান, এবারেই প্রথম বারের মতো শুকিয়ে যাওয়া জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, নদের বালুচরে যে কোন ফসল করায় খরচ কম লাগে। এখানে বোরো ধান আবাদে বাড়তি পানির সেচ লাগেনা। খুব বেশী সারও ব্যাবহার করতে হয় না।
উলিপুর উপজেলার পূর্বাংশের সাহেবের আলগা গ্রামের সৈয়দ আলী বলেন, ব্রম্মপুত্র নদের কাতলামারীর মুখটি বন্ধ হওয়ার উপক্রমে, নদের তলদেশে বরোধান চাষের উপযোগী হয়েছে। এ মুখটি পুর্নাঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারলে নদের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উলিপুর, চিলমারী উপজেলার পুর্বাংশ ও রৌমারী রাজিবপুর উপজেলার পশ্চিমাংশ হলহলিয়া ও সোনাভরি নদের পানি প্রবাহ কমে যাবে। সেই সাথে নদের পারের মানুষ নদের তীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে গম, ধান, মরিচ, ভুট্রা, পাটসহ মৌসুমী ফসল গুলি ফলাতে পারবে।
রৌমারী কৃষি অধিদপ্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইউম চৌধুরী বলেন, হলহলিয়া নদে একসময় খড়াতে কিছুই করা যেতো না। এবার এ নদীতে বলুচরে পরিনত হওয়ায় ভুমিহীন কৃষক ও জমির মালিকরা সুযোগে এসব নদী চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করতে দেখা গেছে। এবার নদের তলি শুকিয়ে যাওয়ায় তাঁরা বোরো আবাদ করছেন।