ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এখন যেন রাজনৈতিক চোরাগলি আর আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির অভয়ারণ্য, মাফিয়া সরকারের পতনের পরও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চলছে আওয়ামী দোসরদের একচ্ছত্র দাপট।
ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার বিদায় হলেও প্রশাসনের কংকাল গাত্রে এখনো সেই বেইমান বিদ্যমান। এদিকে মাফিয়া শেখ হাসিনার জামানায় অন্যান্য সেক্টরের মত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরেও তৈরি হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল মাফিয়া। এদের একজন ঢাকা মেট্রোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামান ওরফে ই-জিপি মনির। নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজ বরাদ্দ হলেও ই-জিপির দায়িত্বে তিনি। ই-জিপি মনিরের হাতেই ঠিকাদারের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। কে কাজ পাবেন তা ঠিক করেন তিনি। আর পাওয়া না পাওয়ার জন্য তিনি করে থাকেন ঠিকাদারের দাখিলকৃত ফাইল থেকে কাগজ চুরির মত গর্হিত অপরাধ।
তিনি নির্ধারণ করেন কোনটি করা কাজ আর কোনটি করা নয়।এক্ষেত্রে করা নয় এমন কাজের মধ্যেও কাছের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তিনি বলেন এগুলো ও করা কাজ যা সম্পূর্ণ বে-আইনি এবং চরম অপরাধ।
তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর অংশীজনও, তাই থাকেন নেপথ্যে। বেছে বেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়াসহ বহু অভিযোগ এর কারণে সম্প্রতি কিছু ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে এই ডিপার্টমেন্টাল মাফিয়া ই-জিপি মনিরকে লাঞ্চিত করেছিল। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মনিরের আধিপত্য।
কিছুদিন আগেও শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রাসেল, তার বিরুদ্ধে জুলাইযোদ্ধা হত্যার ৬টি মামলা রয়েছে। তারই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এইচ রাসেল এনটারপ্রাইজের নামে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পেতে সহায়তা করেছেন মাফিয়া ইজিপি মনিরুজ্জামান। রাজধানীর বনানীর আই-পি-এইচ স্কুলের অনুকুলে বরাদ্দ হয়েছে এ টাকা।
ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজ’এর নামে আগারগাঁও মহিলা পলিটেকনিক্যালের জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ দিয়েছে। এর আগে ইডেন কলেজের অনুকুলে বরাদ্দপ্রাপ্ত ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার কাজও মিলিয়ে দিয়েছেন ওই ইয়াছিনের প্রতিষ্ঠানকে। হাসিনার জমানায় পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে ওই ইয়াছিন এনটারপ্রাইজের নামেই।
ইজিপি মনিরুজ্জামানের সহকর্মীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই, যে অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিমত করব না, তবে ইজিপি মনিরুজ্জামানের হাত দু’টি নয়, এক্সেন স্যারের হাত দুটিও তিনি ব্যবহার করেন। ঠিকাদারের পিসির পরই কিন্তু তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেন। বসের সিগন্যাল ছাড়া ফাইলে হেরফের করার মতো সাহস উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরের হবে না। বসের অর্ডার ফলো করতে গিয়ে আমাদের হাতে রশি লাগে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ইজিপি মনিরুজ্জামানকে ০১৭৩৮...৪৭ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কোন উত্তর মিলেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
