পাবনার ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে অনৈতিক প্রস্তাব ও অর্থ দাবীর করে ব্লাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেছে অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল ও তার ভাই হৃদয়।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকালে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিকামারী মাথাল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ চরমিরকামারী মাথালপাড়া এলাকার বাসিন্দা আর অভিযুক্ত ওই যুবক নয়ন মন্ডল এলাকার মৃত সাইদুল মন্ডলের ছেলে।
আজ সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে নয়ন মন্ডল প্রতিবেশী ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর গোসলের সময় পার্শ্ববর্তী একটি লিচু গাছ থেকে গোপনে আপত্তিকার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ছবি ও ভিডিও ধারণের পর থেকে নানাভাবে ওই গৃহবধূকে অনৈতিক ও আর্থিক কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো নয়ন। টাকা না দিলে গোপন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেখিয়ে কয়েকদফায় টাকাও হাতিয়ে নেন তিনি। আত্মসম্মানের ভয়ে ওই গৃহবধূ বিষয়টি কাউকে জানান নি।
এদিকে গত মঙ্গলবার বিকালে ওই গৃহবধূ গোসলের সময় আবারো পার্শ্ববর্তী লিচু গাছ থেকে ভিডিও করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল। পরে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষয়টি বুঝতে পারলে নয়ন পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষয়টি নিয়ে নয়ন মন্ডলের বাড়িতে প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের পিটিয়ে যখম করে অভিযুক্ত নয়ন ও তার ভাই হৃদয়।
তবে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি নন অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। বর্তমানে সামাজিকভাবে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপে বিষয়টি মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।