সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমীন জাহানের (২৩) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ওই বাসা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শারমীন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহ জাহান মোল্লার মেয়ে।
এ ঘটনায় শারমীনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ফাহিম ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং গত ৫-৬ মাস ধরে তাঁরা ইসলামনগরে আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ফাহিম পুলিশকে জানান, সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন এবং দুপুরে ফিরে শারমীনকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে বাসার মালিক আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী জানান, দুপুরে বাসায় আসার পর তিনি ফাহিমকে কান্নাকাটি করতে দেখেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শারমীনকে হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে শারমীনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল এবং তাঁর মাথায় গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু জানান, শারমীনের মাথা থেঁতলানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সব ধরনের সহায়তা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফাহিমের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।