× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কিশোরগঞ্জে ভিজিএফ চাল কম দেওয়ার অভিযোগে ইউএনও অফিসে অবস্থান

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী।

১৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৯ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় এ অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় কয়েকজন ইউপি সদস্যকে চেয়ারম্যান কর্তৃক লাঞ্ছিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬২৪টি দুস্থ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী (গ্রেনেট বাবু) সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রতি পরিবারকে ১০ কেজির পরিবর্তে ৬ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

গদা গ্রামের উপকারভোগী লালবী বেগম, হামিজা বেগম ও আবুল হোসেন জানান, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হয়েছে। মেপে দেখা গেছে, কাউকে ৬ কেজি আবার কাউকে ৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং ইউপি সদস্যরা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এজারুল হক বগা অভিযোগ করে বলেন, কোনো নীতিমালা অনুসরণ না করে চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছামতো চাল বিতরণ করছেন। উপকারভোগীদের সামনে চাল মেপে দেখা যায় অনেককে ৬ বা ৭ কেজি দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধাক্কাধাক্কি করে লাঞ্ছিত করেন।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভিজিএফের নীতিমালা লঙ্ঘন করে তালিকা অনুমোদন, মাস্টাররোল ছাড়া চাল বিতরণ এবং দরিদ্রদের চাল কম দেওয়া—এসব অনিয়ম এবার প্রকাশ্যে ঘটছে। প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অনিয়মের প্রতিবাদে ইউপি সদস্যরা বিতরণ কার্যক্রম বর্জন করে চলে যান।

এদিকে বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মিজানুর রহমান জানান, যাদের কার্ড ছিল তাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। তবে কার্ড ছাড়া যারা এসেছেন তাদের ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। অতিরিক্ত এই চাল কোথা থেকে এলো—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চেয়ারম্যানই ভালো বলতে পারবেন।

অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী (গ্রেনেট বাবু) ৫ থেকে ৬ কেজি চাল বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তালিকাবহির্ভূত যেসব ব্যক্তি এসেছেন তাদের মধ্যেই কম পরিমাণ চাল বিতরণ করা হয়েছে। তার দাবি, তালিকার বাইরে চাল পাওয়া ব্যক্তিরাই ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.