সাধ্যের মধ্যে হাতের নাগালে বিনোদন কেন্দ্রে সময় কাটাতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা।
এদিকে নিন্ম ও ন্মিমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের কথা মাথায় রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্মতভাবে নরসিংদীতে গড়ে উঠেছে বেশি কিছু বিনোদন কেন্দ্র। ঈদে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে মিলে-মিশে ঈদ উৎযাপনের পাশাপাশি ছুটির দিনগুলো উপভোগ করতে বিনোদনগুলোতে কেন্দ্রে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।
ঢাকা শহরের নিকটতম একটি স্বনামধন্য বিনোদন কেন্দ্র ড্রীম হলিডে পার্ক। যা প্রায় আড়াই হাজার শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ছোট বড় বকল বয়সী মানুষের জন্য রয়েছে বেশ কিছু রাইড। পার্কে নতুন সংযোজন ড্রিম রিভার ক্যাব, রাইডটি এবারে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। রাইডটি প্রাচীন যুগে মানুষের জীবন যাত্রা, প্রচীন জীব-জন্তুসহ আদিবাসীদের জীবনধারার নানা ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়া ওয়াটার পার্ক, স্কাই ট্রেন, বুলেট ট্রেন, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট ও ভূতের রাজ্যসহ ২৫টিরও বেশি রাইডে চড়ে উচ্ছাসিত সব বয়সী দর্শনার্থীরা।
এছাড়াও সুইমিংপুল, এয়ার বাইসাইকেল, বাম্পারকার, সোয়ান র্বোড, ওয়াটার র্বোড, রোলার কোস্টার, ডেমুট্রেন, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট, শিশুদের অতিপ্রিয় বেশকিছু রাইড। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পার্কটিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন আঙিকে প্রস্তুত করেছে কর্তৃপক্ষ। ঈদকে ঘিরে পার্কে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ড্রিম হলিডে পার্কের আকর্ষণ অসংখ্য আধুনিক ও রোমাঞ্চকর রাইড। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী তরুণ-তরুনীদের পাশাপাশি সাহসী দর্শনার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় রাইডও রয়েছে। পরিবার ও শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা ও নিরাপদ ফ্যামিলি রাইড। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ওয়েভ পুল, যেখানে কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ড্রিম হলিডে পার্কটিতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য থাকে।
ঢাকা, গাজীপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুমিল্লা সহ দেশের অনেক জেলা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন ঈদের ছুটি কাটাতে।
ড্রিম হলিডে পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রবীর কুমার সাহা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানের এই পার্ক প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য ঢেলে সাজানো হয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়। নতুন রাইডের পাশাপাশি বাকি সব রাইডকে সাজানো হয়েছে আধুনিক ডিজাইনে। আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এইখানে দেশি-বিদেশি বহু সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে।
গোল্ডেন স্টার পার্ক
এছাড়া সময় ও খরচ বাঁচাতে নরসিংদী শহরের নিকবর্তী বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম নরসিংদী মেঘনা নদীর তীর এলাকায় নজরপুরে গড়ে উঠেছে গোল্ডেন স্টার। প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যে ঘেরা বিনোদন কেন্দ্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট। সাধ্যের মধ্যে থাকায় খুশি সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। যা ইতোমধ্যে সারাদেশ সাড়া জাগিয়েছে। নিন্ম ও ন্মিমধ্যবিত্ত পরিবারসহ সকলের সাধ্যের মধ্যে থাকায় খুশি সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। বিনোদন কেন্দ্রটি প্রাকৃতিক গাছপালাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফুলে ফুলে সজ্জিত রয়েছে। এছাড়াও ছাতা ব্যবহারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকর্ষনে বাড়তি আনন্দ দেয়া হয়েছে।
এখানে ফ্রিজ বি, কফিকাপ, পাইরেট শিপ, সুইং চেয়ার, নৌকা, টুইস্ট, দোলনা, ট্রেন, স্কাইলাফ, বুট, ক্যানেল, বেবি জাম্পসহ প্রায় ২০টির মতো রাইড রয়েছে। বিনোদন প্রেমিরা তাদের পছন্দমতো বিনোদন উপভোগ করতে শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় অল্প খরচে প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্মত বিনোদন কেন্দ্র পেয়ে খুশি তারা।
গাজীপুরের কাপাশিয়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী আজহারুল জানান, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে বেশকিছু বিনোদন কেন্দ্র দেখেছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্মত ও খরচ কম এটাই। এখানে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অল্প টাকায় তার সাধ্যমতো রাইড চড়তে পারে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্রটি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় আলাদা একটি পরিবেশ পাওয়া যায়। এখানে ফুলের বাগানটি দর্শনার্থীদের বেশি আনন্দ দিয়ে থাকে।
ফেইজবুক ও ইউটিউবে এই পার্কটি দেখে অনেকেই একনজর স্বচক্ষে দেখার জন্য চলে আসনে। এখানে এসে দেখেন তার চেয়েও বেশি সুন্দর। ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। কম খরচে অধিকাংশ রাইডই চড়তে পেরয় খুশি তিনি।
বিনোদন কেন্দ্রটি মেঘনা নদীর তীরে সান ফ্লাওয়ার গার্ডেনসহ থাকায় এর দৃশ্য অপরুপ। এছাড়া এখানে যে পরিমানে দেশী-বিদেশী ফুল রয়েছে তা দেশের কোন বিনোদন কেন্দ্রে নেই। তাই পরিবারের প্রত্যেকেই খুব খুশি। এমন মন্তব্য করেন কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থী জলিল মিয়া।
নরসিংদীর রায়পুরায় নতুন করে তৈরী মরজাল ওয়ান্ডার স্টার পার্ক ও রিসোর্ট। একটি জনপ্রিয় ও মনোরম বিনোদন কেন্দ্র ও ইকো রিসোর্ট, যা সবুজে ঘেরা পরিবেশে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত। সবুজ গাছপালা এবং শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে মিনি ট্রেন, পিরাট শিপ, সুইং চেয়ার, টুইস্ট চেয়ার, জাম্পিং হর্স, টি-কাপ, বুলেট ট্রেন সহ অন্যান্য রাইড ছাড়াও বোট রাইড দিয়ে হ্রদে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এখানে সড়ক পথে যাতায়াত সহজলভ্য। এটি মূলত প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো এবং বিনোদনের জন্য একটি চমৎকার স্থান, যা দর্শনার্থীদের কাছে "ওয়ান্ডার পার্ক এন্ড ইকো রিসোর্ট" নামে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন প্রকারবেধে রাইডের টিকেটের দাম ৫০ টাকা, ও ৪০ টাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
