রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবহন ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় পরিবহন চলাচলও কমে গেছে।
এই সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগে যেখানে বাঘাইছড়ি সদর থেকে দীঘিনালা ভাড়া জনপ্রতি মোটরসাইকেল -১৫০, সিএনজি -১৫০ এবং মাহিন্দ্রা -১৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, এখন সেখানে জনপ্রতি মোটরসাইকেল -৩০০, সিএনজি -৩০০ এবং মাহিন্দ্রা -৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও সময়নুপাতে ভাড়া আরো বাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
যাত্রীদের অভিযোগ, হঠাৎ করে ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এমন কৃত্রিম তেল সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের উপর এক প্রকার জুলুম করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে চালকদের দাবি, তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং অনেক সময় অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা ভাড়া বাড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যাত্রীদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় জ্বালানি তেলের সাময়িক সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এছাড়াও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমি পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা করবো। কোনো পরিবহন চালক বা মালিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা অব্যহত রাখবে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন।