× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জামালপুরে সালিসে মারধরের অপমানে মায়ের আত্মহত্যায় গ্রেফতার ২

মাসুদুর রহমান, জামালপুর

২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২ এএম

জামালপুর গরু চোর সন্দেহে যুবককে ধরতে গিয়ে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে সালিসে বৈঠকে মারধরের অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে মা জোসনা বানু আত্মহত্যার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে জামালপুর সদর থানা পুলিশ।  তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার পুর্ব কুটামনি এলাকার আজিজুর রহমান এর ছেলে গোলাম কিবরিয়া মুক্তা(২৮), মো: নায়েব আলীর ছেলে মো: হৃদয় (২০)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল)  ইয়াহিয়া আল মামুন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খলিল হাটা এলাকার নায়েব আলী মেম্বারের স্বজনের বাড়ির গোয়াল ঘরে শব্দ হয়। তাদের সন্দেহ হয় সুজন, তোতা মিয়া ও সোহেল রানা চুরি করতে এসেছে। এ খবর পেয়ে নায়েব আলী মেম্বার তার স্বজনের বাড়িতে আসেন। গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী সুরুজ আলীর ছেলে সুজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনতে যায়। এ সময় সুজনের মা ছেলে তুলে নিতে বাঁধা দেয়। তখন সুজনের মাকে মারধর করা হয়। পরে সুজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার জেরে নায়েব আলী মেম্বার ও তার লোকজন সুজনের বাবা সুরুজ আলীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই তোতা মিয়াকে তুলে নিয়ে আসেন তারা। রাতে সালিস বৈঠকে সিদ্ধান্তে সুরজ আলী ও তোতা মিয়াকে নায়েব আলী মেম্বারের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে সকালে নায়েব আলীর মেম্বারের বোনের বাড়িতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। সোহেল নায়েব আলী মেম্বারের বোনের বাড়িতে আসলে তাকে ওই দুইজনের (সুরজ আলী ও তোতা মিয়া) মাঝখানে বসতে বলা হয়। এসময় সোহেল তাদের মাঝখানে বসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তাদের তিনজনকে একসঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে সুজনের মা জোসনা বেগমকেও ডেকে নিয়ে এসে চুল টেনে কিল-ঘুষি ও মারধর শুরু করেন।সালিশ শেষে বাড়ি ফিরে অপমান ও মানসিক চাপে সুরুজ্জামানের স্ত্রী জোসনা বানু নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলা জুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলে জামালপুর পুলিশ সুপারের মোছা: ফারহানা ইয়াসমিন এর নজরে আসলে তার নির্দেশে তাৎক্ষনিক থেকে কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২ জনকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। 

এ ঘটনায় জামালপুর  সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, জরুরি সেবায় ৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। তাদের জামালপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । 

এ বিষয়ে জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)  ইয়াহিয়া আল মামুন জানান,উক্ত ঘটনায় সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারকরে বিধিমোতাবেক ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।  বিস্তারিত তদন্তের পর রাতভর অভিযান চলিয়ে আত্নহত্যায় প্ররোচনা এবং নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে। অটককৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলমান। অপরাপর জড়িত আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে ।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.