ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ প্রাণ হারিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তার নিজগ্রাম নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া এবং শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজার পর শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে কবর প্রস্তুত করা হয়েছে এবং লাশবাহী গাড়িগুলো কবরস্থানের পাশে অপেক্ষমাণ রয়েছে—যা পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ভারী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, নিহত মুফতি আব্দুল মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও পারিবারিক কারণে তার দাফন সম্পন্ন হচ্ছে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে। এ নিয়ে নিজগ্রামের অনেক বাসিন্দা দুঃখ প্রকাশ করে তাকে নিজ গ্রামে দাফনের দাবি জানান। তবে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই তিতারকান্দিতে এসে জানাজায় অংশ নিতে উপস্থিত হচ্ছেন।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নিজ গ্রামে বসবাসের মতো পর্যাপ্ত জমি না থাকায় তিনি পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করতেন এবং ঈদের ছুটিতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। ভবিষ্যতে নিজ গ্রামে জমি কিনে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত ইউনুস মুন্সীর ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।
একই পরিবারের চারজনের এমন করুণ মৃত্যুতে দুই জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়—পুরো সমাজকেই শোকাহত করেছে।