কুমিল্লার হোমনা উপজেলার উত্তর মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহির উদ্দিনের বাড়িতে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া। পরিবারের ঈদের আনন্দ কেটেছে কান্না, স্মৃতি আর আতঙ্কে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত নৃশংস ট্রিপল মার্ডারে স্ত্রী, ছেলে ও ভাতিজাকে হারিয়ে জহির উদ্দিনের পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। প্রিয়জনদের হারানোর সেই বেদনা এখনো তাদের তাড়া করে ফিরছে। ঘরের প্রতিটি কোণেই যেন ভেসে ওঠে নিহতদের স্মৃতি। ঈদের নতুন পোশাক সেমাই কিংবা উৎসবের কোনো আয়োজনই এই পরিবারের জীবনে আর আনন্দ বয়ে আনতে পারেনি। এবারের ঈদ তাদের কাছে শুধুই স্বজন হারানোর বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে।
এদিকে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা, প্রতিনিয়ত অজানা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবার এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল অথচ এখনো দোষীরা ধরা পড়েনি এটি খুবই উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রবাসী জহির উদ্দিন শোকে মুহ্যমান তার কথাবার্তায় স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। তিনি অনেক কিছু বলতে চাইলেও ভয়ের কারণে যেন মুখ খুলতে পারছেন না। তার কাছে এবারের ঈদ শুধুই বেদনার শুধুই প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি।
এলাকাবাসী ও পরিবারের একটাই দাবি এই ট্রিপল হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এলাকায় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলে তবেই কিছুটা স্বস্তি ফিরবে শোকাহত পরিবারটির জীবনে।