মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার কুমাড়াকাপন এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী আব্দুল হক (৪৫) তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত ভূমি দখলচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্যে তিনি জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হক জানান, কমলগঞ্জ থানার গোপালনগর মৌজার আরএস ১৩১১ দাগের ৫ শতক ভূমি তিনি ২০১৫ সালের ২ জুলাই (দলিল নং ২৫৭৩) জুমারা আক্তার চৌধুরীর কাছ থেকে ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর তিনি পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন এবং নামজারি (খতিয়ান নং ৭৯৯) সম্পন্ন করে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ভূমির মূল মালিক মোতাহির আলী চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন পারিবারিক কারণে তার মেয়েদের মধ্যে ভূমি বণ্টন ও বিক্রয় করেন। আব্দুল হক জুমারা আক্তার চৌধুরীর অংশ থেকে ভূমি ক্রয় করেন। কিন্তু জুমারা আক্তার চৌধুরীর বড় বোন শামিমা আক্তার চৌধুরীর ছেলে পলাশ চৌধুরী তাদের পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমিটি জবরদখল করার চেষ্টা করছেন।
প্রবাসী আব্দুল হক অভিযোগ করেন যে, পলাশ চৌধুরী কতিপয় বহিরাগত লোক নিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি দখলের হুমকি দিচ্ছেন।
জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে পলাশ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল হক এবং তার ভাগিনা সুমন আহমদের নামে কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে করে একজন প্রবাসী হিসেবে দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "আমি একজন সাধারণ প্রবাসী। হাড়ভাঙা খাটুনির জমানো টাকা দিয়ে এই জমিটুকু কিনেছি। অথচ পলাশ চৌধুরী নিজের পারিবারিক শত্রুতার ঝাল আমার ওপর মেটাচ্ছেন। আমি দেশে অল্প দিনের ছুটিতে এসেছি, এখন জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।"
তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইন পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।